কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। শুক্রবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমি মাঠে
কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। শুক্রবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমি মাঠে

কবীর-লালনের দর্শনে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

মধ্যযুগীয় কবি–সাধক কবীর ও মরমি সাধক ফকির লালন শাহর দর্শন, গান ও মানবতাবাদী চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। যেখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে বসবাস করবে। কবীর ও লালনের দর্শনেও মানুষের জাতপাতের ভেদাভেদ নেই।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘যদি জীবনের সমস্যা বুঝতে চান, তাহলে কবীরের কাছে যেতে হবে; আর জীবনের রহস্য বুঝতে হলে লালনের কাছে যেতে হবে।’ তাঁর কথায়, কবীর ও লালনের কথার মূল জায়গা এক—আল্লাহ বা ভগবান এক; তিনি মন্দির বা মসজিদে নন, মানুষের অন্তরে থাকেন।

দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের অশান্ত পৃথিবীতে কবীর ও লালনের দর্শন লাইটহাউসের মতো পথ দেখাতে পারে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস কোনো ধর্ম দেখে মানুষকে আক্রমণ করেনি, এর ভ্যাকসিনও তৈরি হয়েছে সব মানুষের জন্য। এমনকি রক্ত পরীক্ষা করেও মানুষের ধর্ম আলাদা করে চেনা যায় না। লালনের বাণী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিভেদ নেই।’

মানবিকতার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি এলেও এই প্রদীপ যেন নিভে না যায়।’ বিভেদ সৃষ্টিকারীদের সঙ্গে অযথা তর্কে না গিয়ে শান্তি ও মানবিকতার পথে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য ও আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে কবীরপন্থী, রবিদাসপন্থী ও নানকপন্থী শিল্পীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করেন।

লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে উৎসবটি চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। ঢাকার পর বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলে হবে আয়োজন।