শেষ সময়ে বইমেলায় বইপ্রেমী মানুষের ভিড় ও বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
শেষ সময়ে বইমেলায় বইপ্রেমী মানুষের ভিড় ও বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

বই কিনতেই আসছেন পাঠকেরা

‘মেলায় বই বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এবার মেলায় সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি হচ্ছে আজ,’ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন প্রথমার উপব্যবস্থাপক কাউছার আহম্মেদ।

আগামীকাল ১৫ মার্চ অমর একুশে বইমেলার পর্দা নামবে। শেষভাগে এসে মেলায় ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। কাউছার আহম্মেদ জানান, মেলার শেষভাগে যাঁরা আসছেন, তাঁরা বই কিনতেই আসছেন।

নীলকণ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি বই কেনেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা। সহপাঠী নাফিসা আনজুমকে নিয়ে বইমেলায় এসেছিলেন তিনি। নাফিসা কেনেন প্রিয়তম অসুখ সে।

পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছিলেন সুজন মাহমুদ। প্রথমা, গ্রন্থিক প্রকাশনসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনী থেকে মির্জা গালিবকে নিয়ে লেখা কয়েকটি বই কিনতে চান তাঁরা।

প্রকাশকেরা বলছেন, বইমেলায় মির্জা গালিবের বই বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে গালিবের বই নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রথমার উপব্যবস্থাপক কাউছার আহম্মেদ জানান, তাঁদের স্টলে কয়েক দিন ধরে মির্জা গা‌লি‌বের গজল, মির্জা গালিব, মির্জা গালিবের সঙ্গে দেখা বইয়ের বিক্রি বেড়েছে।

প্রথমার বাইরে গ্রন্থিক প্রকাশনেও মির্জা গালিবকে নিয়ে বই বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশনীটির প্রতিনিধি রাবেয়া নুসরাত। তিনি জানান, মির্জা গালিব, মান্টো ও সমকালীনেরা এবং মির্জা গালিবের সাথে আরও কয়েকজন–এর বিক্রি ভালো।

কারা গালিব কিনছেন? জানতে চাইলে রাবেয়া নুসরাত জানান, তরুণ পাঠকেরা গালিবের বই বেশি কিনছেন। তাঁদের মধ্যে গালিবকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ গালিবকে আদর্শ মনে করছেন।

এর বাইরে মারেফতের একগুচ্ছ গোলাপ বইটির বিক্রিও ভালো বলে জানালেন তিনি রাবেয়া নুসরাত।

ইউপিএলে নন–ফিকশন বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান প্রকাশনীটির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) এ কে এম কামরুজ্জামান। বিকেলের দিকে তিনি জানান, ইফতারের পর ঘণ্টাখানেক বিক্রি বাড়ে। ছুটির দিন হিসেবে বইয়ের বিক্রি ভালোই। পাঠক যাঁরা আসছেন, তাঁরা বই কিনতেই আসছেন।

কোন বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে, জানতে চাইলে এ কে এম কামরুজ্জামান জানান, ইসলামের উত্থান ও বাংলা সীমান্ত, বাংলাদেশ জনপদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, সাময়িকপত্রে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বইমেলার ১৬তম দিনে মেলার দ্বার খুলেছিল বেলা ১১টায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিশুপ্রহর ছিল। রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলেছে।

আজ শনিবার মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। আজও মেলায় শিশুপ্রহর থাকবে। বেলা তিনটায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ: মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেবেন মমতাজ জাহান। সভাপতিত্ব করবেন আবুল আহসান চৌধুরী। বিকেল চারটায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় ঝড়বৃষ্টি

গতকাল মেলা শেষ হওয়ার আগে রাত সোয়া আটটার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া ছিল। বেশির ভাগ স্টলে পানি ঢুকেছে। কিছু স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বইও নষ্ট হয়েছে। মেলার মাঠে পানি জমেছে। মেলায় থাকা দর্শনার্থীরা স্টলে ও তথ্যকেন্দ্রে আশ্রয় নেন। তবে আজ স্টল খোলা থাকবে।

মেলায় নতুন বই

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে গতকাল নতুন বইয়ের নাম এসেছে ২৭৭টি। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ফারুক মঈনউদ্দীনের ব্যাংকিং ও অর্থনীতির নীতি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের শুধু মাধবীর জন্য, নাসরীন জাহানের মুখস্থ সংসারের সন্ন্যাস, আবুল হাশেম মিয়ার বাংলার কামান, এম এম বাদশাহর গোপন স্বপ্নের খোঁজে।

আল্লামা ইকবালের কবিতা

মীর তকি মীর আর গালিবের পর উপমহাদেশে উর্দু আর ফারসি সাহিত্যের সবচেয়ে বড় কবি মুহাম্মদ ইকবাল। তিনি ‘প্রাচ্যের কবি’, ‘জাতির কবি’ ইত্যাদি অভিধায় পরিচিত। তাঁর ফারসি কাব্য তাঁকে উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়াজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে। ইকবালের দর্শন বা চিন্তাধারাকে গ্রহণ করা যাক বা না যাক, তাঁর কবি-প্রতিভাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদিও এ দেশে রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে বলা যায় তাঁর কবি পরিচয়টিই চাপা পড়ে গেছে। ইকবালের কবিতার এই নির্বাচিত সংকলনটি পাঠকের কাছে তাঁর সেই মূল কবি পরিচয়কে তুলে ধরবে। এখানে অনূদিত উর্দু ও ফারসি কবিতার বড় অংশটি নেওয়া হয়েছে উর্দু কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের নির্বাচন থেকে। এ ছাড়া আছে ইকবালের সব উর্দু গজল থেকে নির্বাচিত পঙ্‌ক্তি। উর্দু ও ফারসি থেকে অনুবাদ করেছেন জাভেদ হুসেন। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা।

জাভেদ হুসেনের জন্ম ১৯৭৬ সালে, কুমিল্লায়। কার্ল মার্ক্স, মীর তকি মীর, মির্জা গালিব, ফয়েজ আহমদ ফয়েজ ও মনসুর হাল্লাজের কবিতা এবং ব্লেজ পাসকেলের ভাবনাবলি অনুবাদ করেছেন।