মালয়েশিয়ায় অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের থাকার ঘর
মালয়েশিয়ায় অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের থাকার ঘর

মালয়েশিয়ায় এক প্রতিষ্ঠানে ৩ মাস বেতন পান না বাংলাদেশি শ্রমিকেরা, পাসপোর্ট আটকে রাখার অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় বিছানায় ব্যবহৃত সামগ্রী তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়া, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং বৈধ ভিসার অভাবে এসব শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পরিস্থিতি নিরসনে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শ্রম বিভাগ ‘জাবাতান তেনাগা কেরজা’ (জেটিকে) বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।

মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানির নাম অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং (১৯৬৯) এসডিএন বিএইচডি। বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার প্ল্যাটফর্ম মাইগ্রেন্ট ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্কের (এমডব্লিউএন) এ–সংক্রান্ত নথিপত্রে বাংলাদেশি এসব শ্রমজীবী মানুষের মানবেতর জীবনযাপনের তথ্য উঠে এসেছে।

এমডব্লিউএনের নথি ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সব শ্রমিক গত তিন মাস কোনো বেতন পাচ্ছেন না। বেতন না পাওয়ায় তাঁরা দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পারছেন না, এমনকি দেশে পরিবারকেও টাকা পাঠাতে পারছেন না। ফলে অনেকের পরিবারকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। শ্রমিকদের অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন কিস্তি শোধ করতে না পেরে চরম মানসিক চাপে রয়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত প্রায় ৩৫ জন শ্রমিকের বর্তমানে কোনো বৈধ ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট (পিএলকেএস) নেই। শ্রমিকেরা বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে কাজ করছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো কর্মীদের কাজ করার অনুমতি নবায়ন করেনি। ফলে এসব শ্রমিক যেকোনো সময় গ্রেপ্তার বা জরিমানার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি অধিকাংশ শ্রমিকের পাসপোর্ট কোম্পানি নিজেদের কাছে আটকে রেখেছে, যা শ্রম আইনের পরিপন্থী এবং এর ফলে শ্রমিকদের চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময় (ওভারটাইম) কাজ করতে বাধ্য করা হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় তাঁরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য কোনো পরিবহন–সুবিধাও দেওয়া হয় না এবং শ্রমিকদের অভিযোগ শোনার মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও কোম্পানিটিতে নেই।

বিপাকে পড়া এই বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করা, ৩৫ জন শ্রমিকের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট দ্রুত বৈধ করা, কোম্পানির হেফাজতে থাকা পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া, জোর করে অতিরিক্ত কাজ করানো বন্ধ করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং চড়া নিয়োগ ফি ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তদন্ত করা।

শ্রমিকদের প্রত্যাশা, মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করবে এবং তাঁদের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। অভিযোগ করার কারণে কোম্পানি যেন তাঁদের ওপর কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা বা হয়রানি না করে, সে অনুরোধও জানিয়েছেন তাঁরা।