গত বছরের ডিসেম্বরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ। পুরস্কার নিচ্ছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান
গত বছরের ডিসেম্বরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ। পুরস্কার নিচ্ছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান

নির্বাচনে প্রার্থীর হয়ে কোনো পুলিশ কাজ করলে তাঁর শাস্তি হবে: ডিএমপি কমিশনার

নির্বাচনে যাতে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে সব পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, নির্বাচনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)–সহ কোনো পুলিশ সদস্য যদি কোনো প্রার্থীর হয়ে কাজ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগরের গত ডিসেম্বরের অপরাধ পর্যালোচনা–সংক্রান্ত সভায় আজ বুধবার ডিএমপি কমিশনার জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশকে এসব দিকনির্দেশনা দেন। আজ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে এ সভা হয়।

নির্বাচনী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সবাই যেন আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন যেন নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে এবং কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশকে পেশাদারির সঙ্গে কাজ করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, নির্বাচন অফিস ও যেসব কার্যালয়ে নির্বাচনী সামগ্রী রাখা হবে, সেসব স্থানে পুলিশের সতর্ক উপস্থিতি থাকতে হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশের তল্লাশিচৌকি জোরদার করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি কেপিআইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়ে এই সভা চলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। অপরাধবিষয়ক সভা সঞ্চালনা করেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মো. ফারুক হোসেন। এতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী, যুগ্ম কমিশনার, পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার, ডিএমপির সব থানার ওসি ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভালো কাজের জন্য পুরস্কার

ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা রক্ষাসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। গত বছরের ডিসেম্বরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ। শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে চকবাজার থানা। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. আব্দুল রাজ্জাক ও যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মহিউদ্দিন জুয়েল। এএসআইদের মধ্যে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ ও মুগদা থানার এএসআই মো. আক্তারুল ইসলাম।

গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ডিবি–লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডিবি–লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ি চুরি উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের সহকারী কমিশনার এনায়েত কবীর সোয়েব। ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছে ট্রাফিক–গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন রামপুরা ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট এস এম আবদুল আজিজ ও মহাখালী ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আঞ্জুম আল হাসিব।