ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শেষ সময়ে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে চাপ বেড়েছে ক্রেতাদের। বড় শপিং মল থেকে সড়কের পাশের ফুটপাত—সবখানেই চোখে পড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে সকাল থেকে মার্কেটে আসতে শুরু করেছেন তাঁরা।
আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, চাঁদনী চক মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট ও গুলিস্তানের ফুটপাত এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। কমপ্লেক্সের নিচতলা, দোতলা ও তিনতলার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে চোখে পড়ে ক্রেতাদের ভিড়।
দ্বিতীয় তলায় একটি সুপরিচিত ব্র্যান্ডের শোরুমে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী হিমেল হাসানের সঙ্গে। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী–ও। বললেন, ‘কাল গ্রামে যাব কিন্তু এখনো পাঞ্জাবি কেনা হয়নি। গতকাল সন্ধ্যায়ও এসেছিলাম। তবে মনমতো পাইনি এখনো। আসলে ঈদের কালেকশন এত বেশি থাকে যে পছন্দ করা নিয়েই কনফিউশনে পড়ে যাই।’
ক্রেতাদের ভিড়ে উচ্ছ্বসিত বসুন্ধরা সিটির ব্যবসায়ীরাও। কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় মেয়েদের পোশাক বিক্রি হয়, এমন একটি দোকানের কর্মী আল আমিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বেচাবিক্রি ভালোই। গতকালও রাত দেড়টা–দুইটা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে।’
ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে কমপ্লেক্সের ষষ্ঠ তলায় জুতার দোকানগুলোতেও। সেখানে কথা হয় ব্যবসায়ী আনোয়ার উস সালামের সঙ্গে। স্ত্রী এবং বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন তিনি। বলেন, ‘ঈদ এবার ঢাকাতেই করছি। বাকি কেনাকাটা শেষ। মেয়ের জুতা কেনাটা বাকি ছিল, তাই আসা।’
বেলা দুইটা নাগাদ নূরজাহান মার্কেটের নিচতলায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই।
সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, গত ঈদের তুলনায় এবার বাচ্চাদের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে। মেয়েশিশুদের ওয়ান–পিস, টু–পিস এবং ছেলেদের প্যান্ট-শার্ট ও গেঞ্জির কাটতি বেশি। তবে দাম নিয়ে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বাচ্চাদের পোশাক কিনতে আসা একজন নারী ক্রেতা বলেন, ‘একটু কম দামে ভালো জিনিস কেনার জন্য এখানে আসি। তবে এরা দাম বেশি বলছে।’
ভিড়ের একই চিত্র নিউমার্কেটের ভেতরেও। ক্রেতাদের ভিড়ে সেখানে ঠিকমতো হাঁটাও যায় না। পোশাকের পাশাপাশি অলংকারের দোকানেও ভিড় করছেন নারী ক্রেতারা। নিউমার্কেটের ভেতরের একটি ইমিটেশনের অলংকারের দোকানে কথা হয় রাজধানীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের সঙ্গে। বললেন, ‘বাকি কেনাকাটা শেষ। এখন ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে সেট কিনতে এসেছি।’
রাজধানীর ফুটপাতের দোকানেও ভিড় কম নয়। চাঁদনী চক থেকে গাউছিয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বসা অস্থায়ী দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পোশাক কিনতে ভিড় করছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
ফুটপাতের এক বিক্রেতা বলছিলেন, ‘ঈদের আগে এই কয়েক দিনই আমাদের মূল ব্যবসা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ভিড় বেশি হওয়ায় অনেক সময় ক্রেতা সামলানো কঠিন হয়ে যায়।’
একই চিত্র রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে। সেখানকার দোকানগুলোতেও বিক্রি বেশ জমেছে। সড়কের দুই পাশে ভ্যানে পসরা সাজিয়ে বসেছেন তাঁরা। হাঁকডাক দিয়েই বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। শার্ট, গেঞ্জি, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, জুতাসহ প্রায় সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। ঢাকার প্রবেশমুখ হওয়ায় অনেককেই বাড়ি ফেরার পথে শেষ সময়ে সেখান থেকে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
এমনই একজন পোশাক কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুর যাব। একটু পরেই বাস। এত দিন তো কেনাকাটার সময় পাইনি। তাই যাওয়ার পথে সেরে নিচ্ছি।’
ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছোটদের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আর বড়দের ৩০০ থেকে ৭০০। তবে এর চেয়ে বেশি দামের পাঞ্জাবি আছে বলেও জানান গুলিস্তানের একজন কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘মানুষ বুঝে দাম। যার সামর্থ্য বেশি সে দামিটা কিনবে।’