রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন ফুটপাতের দেয়ালে নতুন করে আঁকা তিন বরেণ্য ব্যক্তির প্রতিকৃতি। আজ বুধবার সকালে
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন ফুটপাতের দেয়ালে নতুন করে আঁকা তিন বরেণ্য ব্যক্তির প্রতিকৃতি। আজ বুধবার সকালে

সেগুনবাগিচায় ফুটপাতের দেয়ালে যুক্ত হলো রোকেয়া, জসীমউদ্​দীন ও জীবনানন্দের প্রতিকৃতি

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাতের পাশের দেয়ালে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন ও কবি জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ফুটপাতটির সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দেয়ালে এই তিন গুণী ব্যক্তির ছবি আঁকা হয়।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন এই ফুটপাতের দেয়ালে এর আগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। নতুন তিনটি প্রতিকৃতি যুক্ত হওয়ায় দেয়ালজুড়ে বরেণ্য ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়ল। তবে তালিকা থেকে সাংবাদিক ও গায়ক সঞ্জীব চৌধুরীর ছবি বাদ পড়েছে।

নতুন তিন প্রতিকৃতি নিয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার আজ বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ। আরও গুণী মানুষের প্রতিকৃতি যুক্ত হবে। আমরা আরও কিছু দেয়াল চূড়ান্ত করেছি, সেগুলোতে দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে সেখানে অন্য প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরীর সময়ের একটা বিশাল ফারাক আছে। আমাদের অনেকে এও বলেছে এখানে কেন আইয়ুব বাচ্চু নেই, কেন আজম খান নেই। তরুণদের নিয়েও আমাদের ভাবনা আছে। তাদের প্রতিকৃতিগুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রতিকৃতির সঙ্গে ফুটপাতটি সংস্কারের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে ডাস্টবিন ও বেঞ্চ। সংস্কার করা হয়েছে সীমানাপ্রাচীরও। আগে ফুটপাতটির একাংশ দখলে ছিল। সেটি দখলমুক্ত করার পর সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় ডিএসসিসি।

৫ অক্টোবর সোমবার সকালে ফুটপাতটির সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। তবে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিকল্প জায়গায় তাঁদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, রাজধানীকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি নগরবাসীরও দায়িত্ব।