
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবি জানানোর পর নিয়ম শিথিলের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে আরেকটি প্ল্যাটফর্ম। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামের এই প্ল্যাটফর্মের শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা চান না। এর পরিবর্তে তাঁরা হলে প্রবেশের সময়সীমা রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে।
সোমবার দুপুরে ছাত্রী হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখাসহ তিন দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় ‘বৈষম্যহীন ছাত্রী হল’ নামের প্ল্যাটফর্মটি। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দুপুরে উপাচার্যের কাছে আরেকটি স্মারকলিপি দেন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামের প্ল্যাটফর্মের শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীর ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; ছাত্রী হলের মূল ফটকে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানো এবং বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যেকোনো সময় ‘লেইট গেট’ দিয়ে হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়া হয়রানিমুক্ত করা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে তাঁদের মা ও বোনদের হলের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
ছাত্রী হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়সূচি নিয়ে আলাদা কর্মসূচি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারের পক্ষ থেকে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জেরিন। তিনি জানান, তাঁরা রোববার বিকেলেই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন এবং অন্য প্ল্যাটফর্মের সদস্যরাও এতে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল। এরপরও তারা (বৈষম্যহীন ছাত্রী হল) কেন আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে তাঁরা অবগত নন।
‘আপনারা ২৪ ঘণ্টা ছাত্রী হল খোলা রাখার দাবির বিপক্ষে কি না’—এমন প্রশ্নের জবাবে নুসরাত জাহান জানান, তাঁরা মূল ফটকের সময়সীমা রাত ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাড়ানোর পক্ষে। একই সঙ্গে লেইট গেট সব সময় খোলা রাখতে হবে এবং লেইট গেট দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে হয়রানি করা হয়, তা বন্ধ করতে হবে।
এর আগে স্মারকলিপি প্রদান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নুসরাত জাহান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই অযৌক্তিক নিয়ম আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে প্রবেশের সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত।