হাইকোর্ট
হাইকোর্ট

হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা

ঢাকায় হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ–সম্পর্কিত বিধান প্রশ্নে রুল

ঢাকা শহরে হকারদের যে নীতিমালার মাধ্যমে রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, সেই নীতিমালার বরাদ্দ–সম্পর্কিত বিধান প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রুল দেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ শিরোনামে নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে ৫ মে প্রকাশ করে। নীতিমালায় হকার ব্যবস্থাপনায় কমিটি গঠন, হকারদের নিবন্ধন প্রদান, স্থান নির্বাচন ও নিবন্ধিত ব্যক্তির বরাদ্দ করা স্থানে ব্যবসা করতে পারাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বলা আছে।

নীতিমালার বরাদ্দসংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান গত রোববার রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রোকনুজজামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

পরে আইনজীবী মো. রোকনুজজামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই নীতিমালার মাধ্যমে ঢাকা শহরে হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়া হয়। নীতিমালার বরাদ্দসংক্রান্ত অংশটুকু সংবিধানের ২১ ও ৩৬ অনুচ্ছেদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, ফুটপাত ও রাস্তা জনগণের সম্পদ। জনগণের এই সম্পদ কোনো ব্যক্তিবিশেষকে ব্যবসার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না। এমনকি তা জনগণের নির্বিঘ্ন ও অবাধ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে। যে কারণে ওই রিটটি করা হয়।’

রুলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে হকারদের মধ্যে রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ–সম্পর্কিত ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, আইনসচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মো. রোকনুজজামান।