ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন

পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি আবার প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চলছে: ছাত্রশক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তাঁকে ‘বীরত্বপূর্ণভাবে’ উপস্থাপনের সমালোচনা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সোমবার রাত আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে নির্মাণাধীন ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির নেতারা এ কথাগুলো বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, ‘শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যোগেন মণ্ডল, মাওলানা ভাসানী কিংবা আবুল হাশিম—তাঁদের যখন জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী যায়, তখন কি আপনাদের (ডাকসুর) মনে থাকে না তাঁদের ছবি টাঙানো কিংবা তাঁদের স্মরণ করার কথা? কিন্তু ঠিকই ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টানিয়ে উদ্‌যাপন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা এই মাটির জন্য, এই মানুষের জন্য, এই বাংলা ভূখণ্ডের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁদের নিয়ে ডাকসুকে কখনো কোনো আলোচনা সভা করতে আমরা দেখিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিছু কাজ করলেও সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির রাজনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে হাসিব আল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় বিভিন্ন দল-গোষ্ঠী মধুর ক্যানটিনকে অস্বীকার করতে চায়, ’৭১-এর শহীদকে অস্বীকার করতে চায়, আবার সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের নাম শুনলে অনেকের গা জ্বলে ওঠে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মধুদাও আমাদের, রাজু ভাস্কর্যও আমাদের। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি নিদর্শন, প্রতিটি ঐতিহ্যকে আমরা ধারণ করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁরা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে’ এবং ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গান তিনটি পরিবেশন করেন।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌসসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।