রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঈদের তৃতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। চিড়িয়াখানার সড়কে রয়েছে যানজট। বহু মানুষ হেঁটে হেঁটে চিড়িয়াখানায় যাচ্ছেন।
আজ সোমবার দুপুরে দেখা যায়, মিরপুর ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল এলাকা থেকে অনেকে হেঁটে চিড়িয়াখানার দিকে রওনা করেছেন। আবার বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করেও অনেকে যাচ্ছেন।
সনি সিনেমা হল থেকে একটু এগোলেই যানজট শুরু। যানজট থাকলেও আজকে বিভিন্ন যানবাহন চিড়িয়াখানা পর্যন্ত যাচ্ছে।
তবে যানজটের কারণে অনেকেই যানবাহন থেকে হেঁটেই রওনা হয়েছেন। ফলে রাইনখোলা মোড় থেকে হাজারো মানুষকে হেঁটে চিড়িয়াখানায় যেতে দেখা যায়।
মিরপুর ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল এলাকা থেকে হেঁটে আসছিলেন ষাটোর্ধ্ব মো. আবুল বাশার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ছয় থেকে সাতজন উত্তরা থেকে চিড়িয়াখানা দেখার জন্য যাচ্ছেন। সনি সিনেমা হল থেকে বাস না পেয়ে তাঁরা হেঁটে রওনা দেন।
হাঁটতে কিছুটা কষ্ট হলেও অসন্তোষ নেই আবুল বাশারের। তিনি বলেন, আনন্দ করতে গেলে তো একটু কষ্ট করতে হবেই।
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রিকশায় করে আসছিলেন মিরপুরের বাসিন্দা এস কে মামুনুর রশীদ। তবে যানজটের কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হেঁটে রওনা দেন তিনি। মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে হাঁটছেন। এখনো পৌঁছাতে পারেননি।
মামুনুর রশীদ বলেন, গতকাল রোববার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়ে ব্যাপক যানজটের মধ্যে পড়েন। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে গতকাল বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরে প্রশান্তি আসেনি। তাই আজ চিড়িয়াখানায় যাচ্ছেন, যেন বাচ্চারা খালি পায়ে হাঁটতে পারে এবং দৌড়ঝাঁপ করতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও খোলা জায়গা পায় বাচ্চারা। এখানেও মানুষের যে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, মনে হয় না খোলা জায়গা পাওয়া যাবে।
জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল এখানে ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল।
প্রতিবছরই পবিত্র ঈদুল ফিতরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।