জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষ বৃত্তির অর্থসংক্রান্ত জটিলতার সমাধান আগামী সপ্তাহের মধ্যেই

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা এককালীন বিশেষ বৃত্তির অর্থ ছাড়ের জটিলতা এবং ছাত্রদের মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগের সমাধান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের আহ্বানে তাঁর সভাকক্ষে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তাদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১১ জুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৃত্তির চেক আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ১০ হাজার ১২৪ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ সফলভাবে জমা হয়েছে। তবু অবশিষ্ট ১ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থীর অর্থ জমা না হওয়ায় তারা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, বিশেষ বৃত্তির অর্থ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর দায়িত্ব অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য যথাসময়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবু উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর নামে অর্থ না পৌঁছানোয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার জন্য এই সভার আয়োজন হয়।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ স্থানান্তর না হওয়ার কারণ সম্পর্কে অগ্রণী ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান। তিনি সঠিক দায়দায়িত্ব নিরূপণ ও সমস্যার জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তারা সভায় জানান, অবশিষ্ট ১ হাজার ৮২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১৮ জনের ব্র্যাক ব্যাংক এবং ৬৭০ জনের অন্যান্য ব্যাংকের টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া প্রায় ৭৭০ জন শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, রাউটিং নম্বর ও অন্যান্য তথ্যে ত্রুটি থাকায় তাঁদের হিসাবে অর্থ পাঠানো যায়নি। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চলছে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল ও বৃত্তি শাখার কর্মকর্তারা জানান, অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সমস্ত কারিগরি ও তথ্যগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে বৃত্তির অর্থ পাঠানোর ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন পরবর্তী সময়ে জানান, বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি শাখা থেকে আজই তাৎক্ষণিক একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছাবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক শেখ রফিকুল ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তারা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।