
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে জেলগেটে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানিকালে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলেও তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এর আগে ২৭ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ২৮ জুলাই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপির গোয়েন্দা (তেজগাঁও বিভাগ) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ওই দিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড সংক্রান্ত শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার এজাহারের তথ্যাদি ও সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আসামির বাড়ি ভিন্ন জেলায়। নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হয়নি। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে, মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য পলাতক সহযোগীদের অবস্থান নির্ণয়ে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ (২১)। ওই দিন কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে আসামিরা। রমিজের ডান চোখে গুলি লাগলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে মৃত ভেবে আসামিরা ফেলে রেখে যান। পরে তাঁর বন্ধুরা ও আন্দোলনকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে কাঁঠালবাগানের পদ্মা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রমিজ উদ্দিনের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।