ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর উপলক্ষে ন্যায্য পানির হিস্যা ও সম্মানজনক সহাবস্থানের দাবিতে ‘নাগরিক সমাজ’-এর মানববন্ধন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে
ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর উপলক্ষে ন্যায্য পানির হিস্যা ও সম্মানজনক সহাবস্থানের দাবিতে ‘নাগরিক সমাজ’-এর মানববন্ধন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে

ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর: নদীর পানির হিস্যা আদায়ে জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ দাবি

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষি, সেচ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে একতরফা নীতি বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন নাগরিক সমাজের নেতারা। ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর উপলক্ষে ন্যায্য পানির হিস্যা ও সম্মানজনক সহাবস্থানের দাবিতে ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব ও পানির ন্যায্য অধিকারের প্রসঙ্গে শামসুল হুদা বলেন, এ বাঁধ বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য একটি মরণফাঁদ। বাঁধের ফলে বাংলাদেশের নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানিশূন্য থাকে। পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, আত্রাইসহ উত্তর ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ে। কৃষি ও সেচ–সংকটে পরিবেশ বিপর্যয় জোরালো হয়।

১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি হলেও বাংলাদেশ এখনো পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না উল্লেখ করে শামসুল হুদা বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবিলম্বে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। একটি ‘কার্যকর ও পরিবেশসম্মত’ পানি চুক্তি করতে হবে।

মানববন্ধনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন শামসুল হুদা। এর মধ্যে ১৬ মে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে ‘জাতীয় পানি অধিকার দিবস’ ঘোষণার দাবিও রয়েছে।

গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের প্রতি জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘আমরা গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভারতের কাছে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।’

পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো ও আন্তরিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ওপর জোর দেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন। তিনি নদী দখল-দূষণ রোধে টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান।

বনলতা নারী উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার, ভূমি ও পানি অধিকার, নাগরিক অধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন মানববন্ধনে অংশ নেয়।

আরও বক্তব্য দেন স্টেপ টুওয়ার্ডসের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবি, কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশের মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে, সোনার দেশ ফসলে ভরবে’, ‘উজানের বাঁধ, ভাটির কান্না, এই অন্যায় আর না, আর না’, ‘ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব নিরূপণে আন্তর্জাতিক কমিশন চাই’, ‘ভাটির দেশের মানুষের দাবি, নদীর প্রবাহ ফেরাও, জীবন ফেরাও’, ‘নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও, ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।