ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি এসি বাসে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন মুজাহিদ ইসলাম। কত টাকা নিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১ হাজার ৮০০ টাকা। কয়েক দিন আগেও একই বাসে ১ হাজার ৬০০ টাকায় টিকিট কেটেছিলেন বলে জানান মুজাহিদ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় মুজাহিদের সঙ্গে। তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকটি বাসের কাউন্টার ঘুরেছি। কিন্তু এসি বাসের সব কটিই ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছে।’ আসন ও সময় পছন্দ হওয়ায় তিনি ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছেন বলেও জানান।
আজ রাজধানীর সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দূরপাল্লার সব বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ১০০ টাকা, আবার কোথাও যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সায়েদাবাদে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সহকারী মো. সোহান প্রথম আলোকে বলেন, সব যাত্রী বাড়তি ২০০ টাকা দিচ্ছেন না। কোনো কোচে যাত্রীর সংকট হলে ছাড় দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে হয়।
সোহান জানান, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসে তাঁরা টিকিটপ্রতি কক্সবাজারের ভাড়া রাখছেন স্লিপার কোচে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আগে এই ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা।
এসি সেবা দেওয়া কক্সবাজারের আরেকটি বাস সেন্ট মার্টিন লেক্সাস এক্সপ্রেসে ভাড়া রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সোহেল জানান, আগে এই ভাড়া ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই পরিবহনে চট্টগ্রামের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। আগে নেওয়া হতো ৮০০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি টিকিটে অন্তত ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সকালে টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের টিকিট ক্রয় করেন হোসনে আরা বেগম। সঙ্গে তাঁর মেয়ে ছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জ যাচ্ছিলেন। নন–এসি বাসের দুটি টিকিট হোসনে আরা কেটেছিলেন ১ হাজার ১০০ টাকায়। তিনি জানান, আগে প্রতি টিকিট রাখা হতো ৫০০ টাকা। হোসনে আরা বলেন, ‘কোনো বাসে কম নেই। সবাই ৫০ টাকা করে বাড়তি নিচ্ছে।’
ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে এসি বাসগুলোও ১০০ টাকা বেশি দরে টিকিট বিক্রি করছে। ফাল্গুনী এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে খুলনার এসি বাসের ভাড়া রাখা হচ্ছিল এক হাজার টাকা। আগে এই ভাড়া ছিল ৯০০ টাকা। হানিফ পরিবহন খুলনায় নন–এসি বাসে ৭৪০ টাকায় টিকিট বিক্রি করছিল। আগে প্রতি টিকিটে দাম রাখত ৬৯০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া থেকে ফরিদপুর, মেহেরপুর, নড়াইল, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার বাসে টিকিটপ্রতি ৫০ টাকা বাড়তি রাখা হচ্ছে।
আয় আরও কমেছে
বেশ কিছুদিন থেকে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করে সংসার চালান সাব্বির হোসেন। তবে দুদিন ধরে তাঁর আয় আগের চেয়ে কমেছে। সাব্বির বলেন, তেলের দাম বাড়ছে। কিন্তু মানুষ বাড়তি টাকা দিতে চান না। শাহবাগ মোড়ে সাব্বিরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি তখন যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দুপুরে যখন তাঁর সঙ্গে কথা হয়, তখন তিনি জানান, তখনো তিনি ৪০০ টাকা ভাড়া পেয়েছেন। এখান থেকে তেল খরচ গেছে ৩০০ টাকা।
সাব্বির বলেন, ‘রাইড শেয়ারিংয়ে এখন যে প্রতিযোগিতা, তাতে সব খরচ বাদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করাই মুশকিল।’ তেলের দাম বাড়ার পর গত দুদিন মোটরসাইকেলে যাত্রীও কম পাচ্ছেন বলে জানান সাব্বির।
গোলাপবাগ বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় আরেক মোটরসাইকেলচালক মো. মাসুমের সঙ্গে। তিনিও জানান, যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চান না।
কথা বলতে বলতে মাসুম গোলাপবাগ থেকে ওয়ারী পর্যন্ত একটি রাইড নেন ১৫০ টাকায়। তিনি জানান, আগেও এই পথে তিনি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় যেতেন। কিন্তু প্রতি লিটারে তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ার পরও বাড়তি ভাড়া আদায় করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘বাড়তি টাকা চাইলে যাত্রীরা কয়, আমাদের তো বেতন বাড়েনি। কেন দেব?’
ভাড়া বাড়াল বিআরটিএ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। দূরপাল্লা, রাজধানীসহ শহরের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির কথা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।
বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এই বাড়তি ভাড়ার হার শুধু ডিজেল–চালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ট্রাক–কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী অন্য যানবাহনের ভাড়াও সরকার ঠিক করে দেয় না। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন ও এসি বাসের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।