মরদেহ
মরদেহ

গুলিস্তানে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে মো. আল আমিন (৪০) নামের এক সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলিস্তানের ‘হোটেল রমনা’ থেকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক নার্সিং শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে এসে আল আমিন ওই হোটেলে উঠেছিলেন। নিহত আল আমিন গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকার মৃত ফেরদৌস উদ্দীনের ছেলে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, আল আমিন এক নারীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে উঠেছিলেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আল আমিনকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তাঁর সঙ্গে ওই তরুণীও ছিলেন। তিনি জানান, তিনি বাগেরহাটের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী। সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় ফেসবুকের মাধ্যমে আল আমিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

ওই তরুণী বলেন, আল আমিন ১৩ জুন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। এর আগে বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যে কথা হয় এবং শুক্রবার দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। আল আমিন সৌদি আরব থেকে তার জন্য কিছু উপহার এনেছিলেন। সেই উপহার নিতে শুক্রবার সকালে তিনি তাঁর বাড়ি বাগেরহাট থেকে ঢাকার গুলিস্তানে আসেন। পরে আল আমিন তাঁকে নিয়ে গুলিস্তানের হোটেল রমনার নবম তলায় ওঠেন।

তরুণীর দাবি, কিছুক্ষণ পর আল আমিন ওয়াশরুমে যান। এরপর হঠাৎ একটি ভারী শব্দ শুনে তিনি এগিয়ে যান। ওয়াশরুমের দরজা খোলা অবস্থায় আল আমিনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চিৎকার শুনে হোটেলের বয় হানিফসহ কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে। পরে দ্রুত আল আমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আল আমিনের ছোট ভাই রুহুল আমিন বলেন, তাঁর বড় ভাই সৌদি থেকে আনা কিছু মালামাল একজনের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। পরে তাঁরা খবর পান, গুলিস্তানের হোটেল রমনার ওয়াশরুমে পড়ে তিনি মারা গেছেন। হাসপাতালে এসে তাঁরা আল আমিনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।