
‘মিরাজরা ১১ বন্ধু সেদিন আন্দোলনে ছিল। সবার সন্তান তাদের মায়ের বুকে ফিরে গেল। আমার সন্তান আমার বুকে এল না।…২৯ বছর তার বয়স ছিল। কী অপরাধ ছিল আমার মিরাজের? দেশকে ভালোবেসে প্রতিবাদ করতে যাইয়া তার জীবন দিয়ে গেছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী: শহীদ পরিবার ও আহতদের গণশুনানি’তে এ কথা বলেন এই শহীদের বাবা।
যাত্রাবাড়ীর একটি ভবনের সম্মেলনকক্ষে এ গণশুনানির আয়োজন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
গণশুনানিতে ছেলের শেষ দিনের স্মৃতি তুলে ধরে আবদুর রব বলেন, মিরাজরা ১১ বন্ধু সেদিন আন্দোলনে ছিল। ৫ আগস্ট সকালে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আন্দোলনকে সফল করার জন্য যাত্রাবাড়ীর দিকে যায়। তিনি নিজেও সেদিন ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন।
সেদিনের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুর রব বলেন, চারদিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ও গুলির শব্দে পুরো এলাকা যেন কেঁপে উঠছিল। তাঁর ভাষায়, সেই দৃশ্য ছিল ‘কিয়ামতের আলামতের’ মতো। তিনি নিজের হাতে অনেকগুলো মরদেহ বহন করেছেন বলেও জানান।
শহীদ মিরাজের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে যাত্রাবাড়ী থানার পাশের একটি গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে ছিল।...তাঁর ছেলে আর জীবিত ফিরে আসেনি।
গণশুনানিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা এবং সেখানে আহত ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন, মামলার সম্পর্কে তথ্য নেন এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চিফ প্রসিকিউটর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত প্রায় ৮৫ জনের নাম-পরিচয়সহ একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
যাত্রাবাড়ীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, পৃথক হত্যা মামলা তদন্ত করলে বিচার দীর্ঘায়িত হবে। তাই ১৬, ১৯ ও ২০ জুলাইসহ বিভিন্ন দিনের হত্যাকাণ্ডগুলো দিনভিত্তিক একত্র করে একটি সমন্বিত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একই বিচারে একাধিক ঘটনা ও একাধিক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।