পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলমান ছুটির দিন আজ বুধবারও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে চালকদের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ জানান, তাঁরা ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন।
আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা। তখনো সেখানে তেল দেওয়া শুরু হয়নি।
ফিলিং স্টেশনটির বিক্রয় সহকারী আরিফুর রহমান বলেন, ‘তেলের গাড়ি এসেছে। একটু পর আমরা তেল দিতে শুরু করব।’ জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে যতটুকু চায়, আমরা ততটুকুই দিচ্ছি।’
সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় ছিলেন নুর উদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। গাড়ি থেকে তেল পাম্পে দিচ্ছে। দেওয়া শুরু হলেই পাব মনে হচ্ছে।’
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, তেল কেবল আসছে। একটু পরেই দেওয়া শুরু হবে। তারও কিছুক্ষণ পর ফিলিং স্টেশনটিতে তেল বিক্রি শুরু হয়।
জ্বালানি তেল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে আহাদ আলী নামের একজন বলেন, ‘তেল যতটুকু চেয়েছি, ততটুকুই পেয়েছি। তবে লাইনে অনেকক্ষণ ধরে থাকতে হয়েছে।’
ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মহাখালীর আমতলী এলাকার ক্রিসেন্ট অটোমোবাইলস লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে। সেখানে ডিজেল আছে। অন্য কোনো জ্বালানি তেল নেই। বেলা ১১টার দিকেও ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার আরিফ হোসেন বলেন, ‘এখন শুধু ডিজেল আছে। তিনটার দিকে অকটেন আসবে। তখন আমরা দেওয়া শুরু করব।’
আরেকটু এগিয়ে গেলে গুলশান সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন। সেখানে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেল। বারিধারা থেকে জ্বালানি তেল নিতে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর পাঁচটা থেকে তেলের জন্য অপেক্ষা করছি। তিন দিন আগে একবার নিয়েছিলাম। এখন আবার নিতে হবে।’
মহাখালী রেলগেট সংলগ্ন ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের শুধু সিএনজি দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল কেন দেওয়া হচ্ছে না—জানতে চাইলে ফিলিং স্টেশনটির ক্যাশিয়ার ইয়াসিন হোসেন বলেন, ‘রাতেই তেল শেষ হয়ে গেছে। তেলের গাড়ি আসছে। দুপুরের পর আমরা তেল দেওয়া শুরু করতে পারব।’
জ্বালানি তেল কিনতে দীর্ঘ সারি দেখা গেল বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও। সেখানকার ব্যক্তিগত গাড়ির সারি জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়েছে। আর মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা ক্রেতাদের চাহিদামতো সরবরাহ করতে পারছি।’