রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) অবস্থান। ৩০ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) অবস্থান। ৩০ নভেম্বর ২০২৫

কয়েক দফা দাবিতে রোববার পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচি মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে এবং বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রাজধানীতে পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব মোবাইলের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার রাতে এমবিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লা প্রথম আলোকে এ কথা জানান।

শামীম মোল্লা বলেন, ‘করহার কমানো, বিটিআরসির আরোপিত বাধা দূর করা, আমদানি নীতিমালা সহজ করাসহ কয়েক দফা দাবিতে আমাদের আন্দোলন আগে থেকে চলছিল। এখন সেটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তি।’

এমবিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি আরও বলেন, এসব দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব মোবাইলের দোকান বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া আগামীকাল রোববার ঢাকায় পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন ব্যবসায়ীরা। অবস্থান কর্মসূচি কোথায় হবে, সেটি আগামীকাল জানানো হবে জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার থেকে মুঠোফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে এনইআইআর চালু হয়। এই পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান আন্দোলনকারীরা।

বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪৫ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে গতকাল শুক্রবার তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত।

এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করে আসছিলেন। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যবসায়ীর একটি অংশ অবৈধ পথে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড ও ব্যবহৃত পুরোনো ফোন দেশের বাজারে সরবরাহ করছে। কর ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ ও নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করতে সরকার এনইআইআর পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব মুঠোফোন দেশের নেটওয়ার্কে চালু হয়েছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা অবিক্রীত যেসব ফোনের তালিকা বিটিআরসিতে দিয়েছেন, সেগুলোও রেজিস্টার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুধু নতুন চালু হওয়া মুঠোফোনগুলো এনইআইআরের আওতায় আসবে। তবে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা হবে না। প্রবাসীরা তাঁদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। এনইআইআরে নিবন্ধনের জন্য তাঁরা তিন মাসের সময় পাবেন। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দিয়ে এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে এনইআইআর চালু হওয়ার কথা ছিল। ওই ঘোষণার পর থেকেই মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। ৭ ডিসেম্বর তাঁরা বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করে দিনভর সড়ক অবরোধ করেন। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনইআইআর কার্যকরের তারিখ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে মুঠোফোন আমদানিতে শুল্কও কমানো হয়।