অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাবা। তাঁর নাম আদম আলী (৫৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর আসাদগেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত আদম আলীর ছেলেসহ চারজন।
পুলিশ বলছে, মিরপুরে এক আত্মীয়র বাসা থেকে অসুস্থ ছেলেকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে যান বাবা। ধানমন্ডির ওই হাসপাতাল থেকে আরেকটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ির ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা উল্টে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আদম আলীর অসুস্থ ছেলে সাকির আলী (১৬), ভাতিজা নবী হোসেন (৫০), মেয়ের জামাই শাখাওয়াত হোসেন (৩৫) ও সিএনজিচালক। সিএনজিচালকের নাম জানা যায়নি।
সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহত আদম আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মারা যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মৃতদেহটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পঙ্গু হাসপাতালে ও একজন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিএনজিচালককেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির ভাতিজা মো. মাসুম বলেন, তাঁদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মুক্তা রামপুর। তাঁর চাচা আদম আলী পেশায় কাপড় ব্যাবসায়ী ছিলেন।
মো. মাসুম বলেন বলেন, তাঁর চাচাতো ভাই বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তাকে ভালো চিকিৎসক দেখাতে গ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ঢাকার মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছিলেন তাঁরা।
সেখান থেকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে যান। সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। আরেকটি পরীক্ষার জন্য আরেকটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
কালশীতে দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল আরোহী
অন্যদিকে রাজধানীর কালশী এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. সিয়াম মৃধা (১৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলের চালক মো. নয়ন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়ামের ভগ্নিপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, তাঁর শ্যালক নয়ন নামের এক বন্ধুর মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। একটি বেপরোয়া ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।