
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গতকাল শুক্রবার ককটেল বিস্ফোরণের পর নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও নজরদারি।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে তারা।
ডিএমপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট এবং পিকেট ডিউটি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও চলছে।
বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫১৫
ডিএমপির আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন অভিযোগে ৪৭টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১০টি গুলি, ৩টি চাপাতি, ৫টি চাকু, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৫৩টি লোহার পেরেক (তারকাটা), ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা, ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন, ৩ বোতল বিদেশি মদ, ২০টি বিয়ার, ১টি প্রাইভেট কার, ৫টি মুঠোফোন এবং নগদ ৭ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ, বিজয় সরণি ও ধানমন্ডি এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট ও তল্লাশির চিত্র চোখে পড়েছে। এসব সড়কে চলাচলকারী গাড়ি, মোটরসাইকেল ও সিএনজি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নও (এসআরবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম, রোবাস্ট প্যাট্রোলিং এবং মোটরসাইকেল প্যাট্রোলিং জোরদার করেছে তারা। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআই এবং প্রধান সড়কগুলোতে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করেছে তারা। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছে।
৯ জায়গায় ১৩ ককটেল বিস্ফোরণ
গতকাল দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত ৯টি জায়গায় ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় বিস্ফোরণে এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও কে বা কারা জড়িত, তা এখনো পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।
গতকাল দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। আর রাত ১১টার দিকে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে দুটি এবং ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা কলেজের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
গত মঙ্গলবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।