
আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ছবি মেলার উদ্বোধন আগামীকাল শুক্রবার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ২০০০ সাল থেকে উৎসবটি আয়োজন করে আসছে। দুই বছর পরপর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবারের আসরটি ১১তম। ১৬ দিনব্যাপী এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ ১৮টি দেশ অংশ নেবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও প্রদর্শনী চলবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। উৎসব পরিচালক এ এস এম রেজাউর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা শহিদুল আলম।
বক্তব্যে ছবি মেলা আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শহিদুল আলম। তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে প্রথম ছবি মেলা আয়োজন করতে গিয়ে সপ্তাহব্যাপী হরতালের কারণে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, দেশে যা–ই হোক না কেন, আমরা ছবি মেলা করব এবং সেভাবেই চলছে।
শহিদুল আলম বলেন, ‘এটিকে কেবল একটি উৎসব হিসেবে দেখলে হবে না, এটা একটা আন্দোলন, একটা লড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একদম পরিষ্কারভাবে শুরুর থেকে সিদ্ধান্ত ছিল স্পন্সর যেই হোক না কেন, যে কাজ আমরা দেখাব, যে রাজনীতির ভিত্তিতে আমরা নিজেদের প্রকাশ করব; তার মধ্যে বাইরের কারও কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না। এই স্বাধীনতাটা আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। এটাই আমি মনে করি ছবি মেলার একটা বড় সার্থকতা।’
এবারের আয়োজনে পাঁচটি মহাদেশের ৫৮ জন শিল্পী উৎসবটিতে যোগ দেবেন। উৎসবে তিনটি একক প্রদর্শনীসহ মোট ৯টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ১৭ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত ধানমন্ডির জয়িতা ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান। এতে আর্টিস্ট টক এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের মতো নানা আয়োজন থাকবে।
কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ বলেন, ‘এবারের ছবি মেলার কাজগুলোতে আপনারা একটা স্বাদ পাবেন। যেখানে একদিকে খুবই রাজনৈতিক শক্তিশালী কাজ, হিউম্যানিস্টিক মানবিক কাজ দেখা যায় আবার আরেক দিক থেকে যারা খুব লংটার্ম ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি করেন, তাদের কাজের একটা ছোঁয়া পাওয়া যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কিউরেটর সরকার প্রতীক, আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া, আমন্ত্রিত কিউরেটর তানভি মিশ্রা এবং আলোকচিত্রী মুহাম্মদ সালাহ।