ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। আগারগাঁও, ঢাকা; ইউজিসি ভবনে
ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। আগারগাঁও, ঢাকা; ইউজিসি ভবনে

যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ইউজিসি চেয়ারম্যান

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়, কমিটিকে দেওয়া দায়িত্ব পালনে যথাযথ উদ্যোগও নিতে হবে। সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যৌন হয়রানি রোধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁও ইউজিসি ভবনে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

ইউজিসির পক্ষে কমিশনের সচিব মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং সমঝোতা স্মারকে সই করেন। সমঝোতার আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের জাতীয় জরিপের তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলা হয়, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব কমিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না। তাই কমিটি শুধু গঠন করলেই হবে না, সেটিকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যেন বলতে না পারেন, এটা তাঁর কাজ নয়।

প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সমাধান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ইউজিসি ব্যবস্থা নেবে।

যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির জন্য জাতীয় পর্যায়েও একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মামুন আহমেদ। প্রস্তাবিত এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে এ কমিটি কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিরসন গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কর্মক্ষেত্র ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন টাস্ক টিমের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।