
দেশে এক দিনে নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৫২৭ জন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ১৭ জন।
আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ৪৯ হাজার ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গতকাল শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৪০।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। তাঁদের মধ্যে ১০ জন ঢাকায় ও ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন। এ ছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৯০ বছর।
২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪ জন। সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মারা গেছেন ২৮ হাজার ২৭৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬০ হাজার ৬ জন।
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এর সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের ধরনগুলোর তুলনায় অমিক্রন দ্রুত ছড়ায়। দেশেও এ ধরন শনাক্ত হয়েছে। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দেশে করোনায় মৃত্যু, শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। তবে আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে।
গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকেও দেশে করোনা শনাক্ত ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। তবে গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। গত মাসের শেষ দিকে যেখানে দৈনিক রোগী শনাক্ত ৫০০-এর ঘরে ছিল, সেখানে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে এ সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যায় ১০ জানুয়ারি। এর পর থেকে নতুন রোগী দ্রুত বাড়ছে।
করোনার বিস্তার রোধে সরকারের বিধিনিষেধ চলছে। ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১টি বিধিনিষেধ ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এ নির্দেশনা কার্যকর করতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়।