শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলায় টিকাকেন্দ্র। যাঁরা নিবন্ধন করে এসেছেন, তাঁদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এক পাশে ব্যবস্থা। আর যাঁরা নিবন্ধিত না, তাঁদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলায় টিকাকেন্দ্র। যাঁরা নিবন্ধন করে এসেছেন, তাঁদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এক পাশে ব্যবস্থা। আর যাঁরা নিবন্ধিত না, তাঁদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা

শুক্রবার খোলা কেন্দ্র, নিবন্ধন ছাড়াই মিলেছে টিকা

সরকারি ছুটির দিন হলেও আজ শুক্রবার করোনার টিকাকেন্দ্র খোলা ছিল। নিবন্ধিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নিবন্ধন করেননি এমন ব্যক্তিরাও আজ টিকা পেয়েছেন। তবে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, এমন ব্যক্তিদের করোনার প্রথম ডোজের টিকা পেতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

আগামীকাল শনিবার সারা দেশে ১ কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। ওই দিনের ভিড় কিছুটা কমাতে আজ শুক্রবারও টিকাদানকেন্দ্র খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে টিকাগ্রহীতাদের ভিড়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি বেশি। ১৮ বছরের কম বয়সীরাও টিকা নিতে এসেছে। নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের খুদে বার্তা ছাড়াই টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে যাঁরা অন্য কেন্দ্রে নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে অনুরোধ করা হয়।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন শিশু হাসপাতালে টিকা দিতে আসেন। তাঁর জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কোনোটাই নেই। শিশু হাসপাতালের টিকা বুথের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি তাঁকে জানান, টিকা পেতে অন্তত জন্মনিবন্ধন থাকা লাগবে। সালাউদ্দিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু মুঠোফোন নম্বর থাকলেই টিকা পাওয়ার কথা। তাঁদের কথোপকথনের সময় এই প্রতিবেদক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শিশু হাসপাতালের টিকা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তাঁরা বলেন, অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অন্য কেন্দ্রে নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু পরিচয়পত্র ছাড়া টিকা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তাঁরা এখানে চলে আসছেন। তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে অন্তত জন্মনিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। পরে সালাউদ্দিনকে মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে একটি টিকা কার্ড দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব মো. শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, জন্মনিবন্ধন বা পরিচয়পত্র না থাকলেও টিকা দিতে হবে। এ বিষয়ে টিকাকেন্দ্রগুলোতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। দুই-একটি কেন্দ্র নির্দেশনা না মেনে নিজেদের মতো কাজ করছে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রেই সমস্যা হচ্ছে না।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের চারতলায় টিকাকেন্দ্র। দেখা যায়, যাঁরা নিবন্ধন করে এসেছেন, তাঁদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এক পাশে ব্যবস্থা। আর যাঁরা নিবন্ধিত না, তাঁদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা। যাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন রয়েছে, কিন্তু নিবন্ধন করেননি, তাঁরা সহজেই টিকা পাচ্ছেন।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রের ইনচার্জ মঞ্জু আরা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা আসছেন সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন বা পরিচয়পত্র না থাকলেও এখানে টিকা দেওয়া হচ্ছে। মুঠোফোন নম্বরের বিপরীতে তাঁদের একটি টিকা কার্ড করে দেওয়া হচ্ছে।

১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক মো. শামসুল হক করোনার টিকাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি এক দিনে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। যাঁদের জন্মনিবন্ধন ও পরিচয়পত্র নেই, তাঁরা ২৬ ফেব্রুয়ারির আগে সরাসরি হাসপাতাল ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন।