কিশোরী হেনার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আসামিরা জামিনে, মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দোররার আঘাতে নিহত কিশোরী হেনা আক্তারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য সালিসে দোররা মারার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেনার মৃত্যু হয়। এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হেনার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই আসামিরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

এজাহার ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামের হেনা আক্তারকে (১৪) তাঁর চাচাতো ভাই মাহাবুব খান ধর্ষণ করেন। পরদিন রাতে চামটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৎকালীন সদস্য ইদ্রিস শেখের নেতৃত্বে সালিস বসিয়ে ফতোয়া দিয়ে হেনাকে দোররা মারা হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেনা ৩১ জানুয়ারি রাতে মারা যায়। ১ ফেব্রুয়ারি নড়িয়া থানায় হেনার বাবা দরবেশ খান ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোয় ‘মেয়েটির জন্য কারও মায়া হলো না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি হেনার মা আকলিমা বেগম ধর্ষণ ও ফতোয়া দিয়ে দোররা মারার অভিযোগে ১৮ ব্যক্তিকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ৭ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ দুটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে।

হত্যা মামলাটি শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আর ধর্ষণ মামলাটি শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বাদী ও সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলার বাদী আকলিমা বেগম, সাক্ষী রিয়াদ খান, কল্পনা বেগম, কাজল রেখা ও রেহানা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ছাড়া জেলা জজ আদালত থেকে ২৬ জানুয়ারি বাদী দরবেশ খান, সাক্ষী আকলিমা বেগম, রেহানা আক্তার, কল্পনা বেগম ও কাজল রেখাকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

হেনার বাবা দরবেশ খান বলেন, ‘হেনা হত্যার পর সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হত্যাকারীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু বেশির ভাগ আসামি জামিন পেয়েছে, অনেকে পলাতক। তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য নানা কৌশলে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আদালতে যেতে যেতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। অনেক দিন যাবৎ মামলার খোঁজ নিতে পারি না।’

মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব খান বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝির কারণে আমাকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা (হেনার পরিবার) আমাদের আত্মীয়স্বজন। এখন আমরা মিলেমিশে আছি।’