প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে শাহীন নামে এক তরুণকে বিয়ে করেছে ঢাকার সাভারের এক স্কুলছাত্রী। কিন্তু এ ঘটনায় অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন পুলিশি রিমান্ডের মুখোমুখি মিজানুর রহমান নামের অপর এক যুবক।
সাভার মডেল থানায় গত সোমবার করা মামলায় মেয়েটির মা অভিযোগ করেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সাভারের গেন্ডা এলাকার কলেজছাত্র মিজানুর রহমান (২০) তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। ২৭ জানুয়ারি ব্যাংক কলোনির বাসা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে মিজান তাঁর মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এর পর থেকে তাঁর মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
মামলা হওয়ার পরপরই গেন্ডা এলাকা থেকে পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ওই দিনই ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয় তাঁকে। তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অথচ মেয়েটি প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে জানায়, শাহীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ১৮ জানুয়ারি তারা বিয়ে করে। ২৭ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে চলে যায়। স্বামী তাকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে রাখে। সেখান থেকে পুলিশ সোমবার তাকে উদ্ধার করে। কেউ তাকে অপহরণ করেনি।
মেয়েটি জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাইরুজ তাসনীমের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও সে একই কথা বলেছে। সে আরও বলেছে, মিজান তাকে কখনোই উত্ত্যক্ত করেননি।
মেয়েটির মা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হলেও তার বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে অপহরণ করার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। আমার পরিবারের কেউ তাঁকে অপহরণ করতে দেখেনি। সন্দেহের বশেই মিজানকে আসামি করা হয়েছে। কারণ তাঁর (মিজান) সঙ্গে আমার মেয়ের মাঝেমধ্যে মুঠোফোনে আলাপ হতো।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, মামলার কারণে মিজানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে আনা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।