
এবার কুমিল্লা শহরের রসুলপুর এলাকায় গতকাল শনিবার খুন হয়েছে মেহেদী হাসান জয় (৮) ও মেজবাউল হক মনি (৬) নামের দুই শিশু। তারা আপন দুই ভাই। তাদের সৎভাই মো. আল সফিউল ইসলাম ওরফে ছোটন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাদের বাবা।
সম্প্রতি হবিগঞ্জের বাহুবলে একসঙ্গে তিন চাচাতো ভাইসহ চার শিশুকে হত্যা, বরিশালের আগৈলঝাড়ায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ও ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক শিশু হত্যার ঘটনার পর সর্বশেষ কুমিল্লায় একসঙ্গে দুই শিশুকে হত্যার এ ঘটনা ঘটল।
সরেজমিনে পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রসুলপুর এলাকার মুদি দোকানদার আবুল কালামের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী রোকেয়া বেগমের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা বেগমের দুই ছেলে মেহেদী হাসান জয় ও মেজবাউল হক মনি। গতকাল সকালে আবুল কালাম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নয়নপুর গ্রামে যান। এ সময় মেহেদী ও মেজবাউল বাড়ির পাশে হলিচাইল্ড আইডিয়াল স্কুলে ছিল। দুপুরে স্কুল থেকে তারা বাড়ি ফেরে। ওই কক্ষেই শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করা হয়। সফিউলের ছোট বোন এসএসসি পরীক্ষার্থী সুফিয়া আক্তার তানজিনা বেলা দেড়টার দিকে তার বাবাকে মুঠোফোনে হত্যাকাণ্ডের খবর জানায়। এরপর আবুল কালাম স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। শিশুদের নিথর দেহ দেখে তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত শিশুদের বাবা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, তাঁর প্রথম স্ত্রী রোকেয়া বেগমের প্ররোচনায় বড় ছেলে সফিউল ইসলাম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর সফিউল আত্মগোপন করেছেন।
আবুল কালাম বলেন, ‘আমার প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও তিন মেয়ে। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়েটি, দ্বিতীয় স্ত্রী, দুই ছেলে নিয়ে এ বাড়িতে থাকি। বড় ছেলে সফিউল রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছুটি হলে সে বাড়িতে আসে। তার মা এ বাড়িতে মাঝেমধ্যে আসে। মা ও ছেলে মিলেই আমার ছেলেদের হত্যা করেছে। কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, জানি না। আমার ঘরভিটি ছাড়া আর কিছু নেই।’
রেখা আক্তার তাঁর দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। বারবার তিনি মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার বুকের মানিকদের এনে দাও।’
রেখা আক্তারের বাবা ও শিশুদের নানা সহিদ মিয়া বলেন, ‘গত শনিবার তাদের নানি মারা যায়। এ উপলক্ষে বাড়িতে দোয়া পড়ানো হচ্ছে। এমন সময় খবর এল দুই নাতিকে হত্যা করা হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা ও দুই ছেলেকে হারিয়ে মেয়েটি কীভাবে শোক সামলাবে।’
খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. আলী আশরাফ ভূঞা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আইয়ুব। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রশি ও গামছা উদ্ধার করে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। শিশু দুটির বড় ভাই-ই তাদের হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।