
বৃদ্ধা আছিয়া বেগম (৭০) ঈদের আগে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জাকাত-ফেতরার বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন। এক এক করে তাঁর ঘরে জমেছিল ৩৫ হাজার টাকা। সেই টাকায় নজর পড়ে নাতি (মেয়ের সন্তান) ইয়াকুব আলীর (১৮)। নানির কাছে তিনি আবদার করেন ৩৭ হাজার টাকা। না দেওয়ায় নানিকে শয়নকক্ষেই গলা কেটে হত্যার পর আঁচল থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান নাতি।
আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য তুলে ধরেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা গ্রামে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘণ্টাখানেক পর রাত ১০টায় পুলিশ হত্যার খবর পায়। এরপর কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খুনি শনাক্ত করা হয়। আটক করা হয় নাতি ইয়াকুবকে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার আছিয়া বেগম শেখেরকোলা গ্রামের মৃত রমজান আলী ফকিরের স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক বৃদ্ধার নাতি ইয়াকুব আলী বগুড়া সদরের বালা কইগাড়ি দক্ষিণ পাড়ার মেনন প্রামাণিকের ছেলে। ইয়াকুব রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করেন। আছিয়ার স্বামী ও একমাত্র ছেলে অনেক আগেই মারা গেছেন।
পরিবারের বরাত দিয়ে বগুড়া সদর থানা–পুলিশ জানিয়েছে, স্বামী মারা যাওয়ার পর ওই বৃদ্ধা জরাজীর্ণ এক ঘরে বসবাস করতেন। অন্যের কাছে হাত পেতে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর ছেলের বউ নাজিরা বেগম (৪৫) আরেক ঘরে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টা থেকে ৯টার মধ্যে আছিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে খুনি পালিয়ে যান। এ সময় পুত্রবধূ নাজিরা অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফেরার পর শাশুড়ির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুত্রবধূ দরজা খুলে ঘরের ভেতরে বিছানায় তাঁর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, নিজ শয়নকক্ষে ওই বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান নাতি ইয়াকুব আলী। রাত ১০টার দিকে বগুড়া সদর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এরপর গ্রামের একটি দোকান থেকে সন্ধ্যায় কেনা সিগারেটের সূত্র ধরেই খুনি শনাক্তে মাঠে নামে। রাত একটার দিকে বগুড়া সদরের বালা কইগাড়ি দক্ষিণ পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ইয়াকুবকে আটক করে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াকুব পুলিশকে জানান, জমানো টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নানি আছিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেছেন।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাঁকে আজ আদালতে পাঠানো হবে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি না হলে আদালতে রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।