সংসদীয় কমিটির বৈঠক

নথি গায়েবের অভিযোগ স্বীকার করল রাজউক

অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাঝেমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নথি গায়েব হয়ে যায় বলে স্বীকার করেছে রাজউক। রাজউক বলেছে, নথি গায়েব হওয়ার কারণে গুলশানের অবৈধ কিছু প্লটের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠানসম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি স্বীকার করেছে রাজউক। ভবনের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য কাজেও রাজউকে গিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি হওয়ার অভিযোগও সংস্থাটি স্বীকার করেছে।

বৈঠক সূত্র বলেছে, রাজউকে মাঝেমধ্যে একজনের প্লট অন্যজনকে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুলশান এলাকার বিভিন্ন অবৈধ প্লটের নথি গায়েব হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে রাজউকের অসাধু কর্মকর্তারা প্লটের মূল নথি গায়েব করে ফেলেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে প্লট কিংবা ভবনের নথি গায়েব করে মালিকদের ওপর চাপ দিয়ে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করা হয়। গতকাল সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব অভিযোগ সত্য কি না, জানতে চাইলে রাজউকের কর্মকর্তারা তা স্বীকার করেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রাজউক স্বীকার করেছে। অকারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও তাঁরা মেনে নিয়েছেন। কমিটি রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং রাজউকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার সুপারিশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যানকেও এ বিষয়ে আগ্রহী মনে হয়েছে।

বৈঠক সূত্র বলেছে, অবৈধ প্লট নিয়ে আলোচনা হলেও রাজউক এসব প্লটের তালিকা উপস্থাপন করেনি।

বৈঠকে রাজউকের বিভিন্ন অনিয়ম ও নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, রাজউকের ১ হাজার ৬২৬টি নিরীক্ষা আপত্তি রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ৮ হাজার ৫২৫ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার।

শওকত আলী বলেন, রাজউকের নিরীক্ষা আপত্তি বেড়েই চলছে। কিন্তু নিষ্পত্তি নেই। কমিটি দ্রুত আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলেছে।

শওকত আলীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, হাবিবর রহমান, আবদুর রউফ ও নাভানা আক্তার অংশ নেন।