ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় দুই ভাগনিকে নিয়ে বেড়াতে এসে রক্তাক্ত হয়েছেন এক আলোকচিত্রী। তিনি একটি বেসরকারি ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক। তাঁর সঙ্গে থাকা এক ভাগনি কানাডাপ্রবাসী, অপরজন একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁরাও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুরঘাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি রাজধানীর ‘বেগার্ট ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফি’র পরিচালক ও প্রশিক্ষক ইমতিয়াজ আলম বেগ। অভিযোগ পাওয়া গেছে, শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী এ ঘটনায় জড়িত।
আহত ইমতিয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেলে তাঁর দুই ভাগনিকে রিকশায় করে কার্জন হল দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা শহীদুল্লাহ হলের পুকুরঘাটে গিয়ে বসেন। তখন চার ‘ছাত্র’ তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কি না। উত্তরে ‘না’ বললে ওদের একজন ‘এটা কি বসার জায়গা?’ প্রশ্ন করে অকস্মাৎ মারধর শুরু করেন তাঁরা।
এ সময় ইমতিয়াজের মাথা ফেটে যায়। দুই ভাগনিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তাঁরা সেখান থেকে বের হয়ে প্রথমে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে স্বজনেরা তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে চিকিৎসা করিয়ে শাহবাগ থানায় আসেন।
সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখা যায়, ইমতিয়াজের মাথায় ব্যান্ডেজ। তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। পাশে বসা এক নারীর গায়ের জামা ছেঁড়া দেখা যায়। জিডি করার সময় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
থানায় ইমতিয়াজের একাধিক স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, কানাডা থেকে ইমতিয়াজের এক ভাগনি এক সপ্তাহের জন্য ঢাকায় এসেছেন। গতকাল তাঁকেসহ অপর এক ভাগনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, যাঁরা মারধর করেছেন, তাঁরা শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের কর্মী। প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, তবে রাজনৈতিকভাবে তেমন পরিচিত নন। তিনি এঁদের নাম জানেন না।
শহীদুল্লাহ হলের ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জড়িতদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।