রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি যাবেন বলে বেরিয়েছিলেন জাবেদ আহমেদ (৫১) নামের এক ব্যক্তি। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তাঁর সর্বশেষ অবস্থান পেয়েছিল কলাবাগানে। আজ মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডি লেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার পুলিশ বলছে, আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা–৯৯৯ নম্বরে কল আসে। ধানমন্ডি লেকে এক ব্যক্তির লাশ ভাসছে বলে জানানো হয়। এই খবর পেয়ে ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কের একটি হোটেলের পেছনের সেতুর নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে তাঁর নাম–পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তাঁর স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর আজ দুপুরের দিকে প্রথম আলোকে বলেন, জাবেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এবং তিনি বাসায় ফিরে না আসায় তাঁর স্ত্রী ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাবেদ আহমেদ একজন মার্কেটিং কনসালট্যান্ট ছিলেন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। আর্থিক অভাব–অনটনের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি।
জাবেদের মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় বলে জানান এসআই আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ধানমন্ডি থানা–পুলিশ বলছে, জাবেদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি পানিতে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে।
পুলিশ জানায়, জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা বনানী। তবে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় থাকতেন। তাঁর বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা জাবেদ।