
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গ্রুপ খুলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ চীনা নাগরিকসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. জাকারিয়া এবং চীনের নাগরিক চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ ও হুয়াং ঝেং জিয়াং।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) অরুপ তালুকদার। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা বিভিন্ন সাইটে ডিপোজিট করার জন্য বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে আকৃষ্ট করে বিশ্বাস স্থাপন করেন। এ জন্য তাঁরা মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতেন। অনেকে না বুঝে অল্প সময়ে লাভবান হওয়ার আশায় ওই সাইটগুলোতে টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে আসামিরা প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এসব ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, আসামি জাকারিয়াসহ কয়েকজন বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বিকাশ ও নগদের এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে গ্রেপ্তার চীনা আসামিদের কাছে হস্তান্তর করেন। চীনা নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিকাশ বা নগদের এজেন্ট সিম সংগ্রহ করেন। এরপর তাঁরা ল্যাপটপ ও মুঠোফোন ব্যবহার করে অবৈধ অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা ও এজেন্ট সিমগুলো দিয়ে লেনদেন করে আসছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত সিমকার্ডে বিকাশ ও নগদে অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৪৭টি মুঠোফোন, ১৮৪টি সিমকার্ড ও ৫টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ত্রিদীপ বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলা করেন।