
ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে চাকরি করতেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হন তিনি। এরপর চাকরি ফিরে পেতে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সচিবদের নামে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ফাইল তৈরি করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ‘অগ্রাধিকার’ সিল নকল করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। পরে তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র গড়ে তোলেন এবং এসব সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তদবির করে আসছিলেন।
আজ মঙ্গলবার ও গতকাল সোমবার এই চক্রের মূল হোতা ফারুক হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
আজ বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন সাকিব খান (২৫), মাসুম মুনসী (৪৫), মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) ও মো. বকুল মন্ডল (৩৫)।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে আজ মাদারীপুরের কালকিনি থেকে এই চক্রের মূল হোতা ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া কালকিনি থানা পুলিশ কর্তৃক আগেই গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম মুনসীকেও এ ঘটনায় হেফাজতে নেয় ডিবি। একই সময়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য বকুল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের অফিশিয়াল লেটারহেড প্যাডের চার বান্ডিল, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সিল ও স্বাক্ষর–সংবলিত ৪১টি সিল, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত আটটি মুঠোফোন, দুটি কম্পিউটার ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
ডিবির তদন্তে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত নথি জালিয়াতির পাশাপাশি চক্রটি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে চাকরি পুনর্বহালের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো। একই কৌশলে জনশক্তি রপ্তানিসংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছিল।