
জাল টাকার ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। র্যাব বলছে, তাঁরা কৈশোরেই এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এখন তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক। ফেসবুক, মেসেঞ্জারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জাল নোটের ব্যবসা করতেন তাঁরা।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বাহিনীর মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. মাউন হোসেন সাব্বির (২১), মো. পারভেজ (২০), মো. তারেক (২০) ও মো. শিহাব উদ্দিন (২০)।
র্যাব বলছে, তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা সমমূল্যের জাল নোট, ১টি ল্যাপটপ, ১টি প্রিন্টার, ১টি পেনড্রাইভ, ১টি অ্যান্টিকাটার, টাকার ১টি পাঞ্চিং রোল, জিলেটিং ৫০০ গ্রাম, প্রিন্টারে ব্যবহৃত কালির ১২টি খালি বোতল, ৫০০ গ্রাম গালা, ৬ বোতল স্পিরিট ও ৬ বোতল ফেবিকল আঠা জব্দ করা হয়েছে। এগুলো দিয়ে তাঁরা জাল নোট বানাতেন, বলছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব আরও বলেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁরা যোগসাজশের মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতেন। এ ছাড়া এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং দোকান, মাছের আড়তসহ জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় জাল নোট ব্যবহার করতেন। চক্রটির অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার মাউন হোসেন সাব্বির । তাঁর চক্রের সঙ্গে আরও ১৫-২০ জন সদস্য জড়িত রয়েছেন বলে জানা যায়। তাঁরা কম সময়ে অল্প পুঁজিতে ধনী হওয়ার জন্য এভাবে প্রতারণা করেছেন।
র্যাব কর্মকর্তা আল মঈন আরও বলেন, তাঁরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ ধরনের জাল টাকা তৈরি ও ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্র আরেকটি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করত।
র্যাব কর্মকর্তা আল মঈন আরও বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা মাউন হোসেন সাব্বির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে পরিচালিত ‘জাল টাকা প্রতারক চক্রবিরোধী পোস্ট’ নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে কাজ চালাতেন। তাঁরা প্রথমে মেসেঞ্জারে এক্সম্যান নামের একটি গ্রুপ খুলে জাল টাকা তৈরি, ব্যবসার বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করতেন। এ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে শিহাব কাজ করতেন। শিহাবের মাধ্যমে পারভেজ ও তারেকের সঙ্গে মাউনের পরিচয় হয়। পরবর্তীকালে মাউন ইউটিউব, ফেসবুক ও গুগল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে জাল নোট তৈরির জন্য সরঞ্জাম কেনেন। মাউন ও তাঁর চক্র ঢাকাসহ সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর এলাকায় জাল নোট সরবরাহ করতেন।
র্যাব বলছে, মাউন ও শিহাব কলেজে স্নাতকোত্তর ও ডিগ্রিতে পড়ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁরা জাল নোটের ব্যবসা করতেন।