
পাপেলের নেতৃত্বে লেলিন, হানিফ ও শুভ্রের বিরুদ্ধে চক্র গড়ার অভিযোগ; গদি, ঘাট, আড়ত ও পরিবহনে টাকা আদায়।
রাজধানীর গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে সারি সারি ইট, বালু ও পাথরের গদি। এসব গদি বা আড়ত চালাতে প্রতিটিকে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেখানে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা করে। নদীপথেও রেহাই নেই—চলন্ত নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে গিয়ে টাকা তোলা হয়।
রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, এসবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে, শুধু গদি, পণ্যবাহী ট্রাক ও গাবতলী পশুর হাটের সামনের দোকান থেকে মাসে আদায় হয় প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা। শাহ আলী মাজারের আড়ত কমপ্লেক্স ও বাইরের জায়গা থেকে ওঠে আরও ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর বাইরে নৌপথে শুল্কের নামে এবং বাস টার্মিনাল ও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরেও টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব পাপেলের এই চক্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও হাফিজুল হাসান ওরফে শুভ্র। তাঁদের অনুসারীদের মাধ্যমে পশুর হাট, কাঁচাবাজার, ঘাট, গদি ও পরিবহন স্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদা আদায় করা হয়।
গত মাসে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটেও এই চারজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হানিফ। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শুভ্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কোনো কমিটিতে না থাকায় পাপেল ও লেলিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ তাঁদের খুঁজছে।
শুভ্রর দাবি, তিনি ব্যবসা করেন; দখল বা চাঁদাবাজিতে যুক্ত নন। রাড্ডার ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে বলে তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাপেল, লেলিন ও হানিফের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রথম দুজনকে পাওয়া যায়নি; হানিফ ফোন ধরেননি। পুলিশ বলছে, তাঁরা পলাতক, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শ্যামলের হয়ে গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজটি করেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক।
গদি, ট্রাক ও দোকান থেকে মাসে ৩৫ লাখ টাকা
গাবতলী থেকে কল্যাণপুর পানির পাম্প বা স্লুইসগেট পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে শতাধিক অবৈধ গদি রয়েছে বলে গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি জানিয়েছে। এগুলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইট-বালুর পাঁচ ব্যবসায়ী ও তিন কর্মচারী জানান, ওই এলাকায় শতাধিক গদিঘর রয়েছে। গদিপ্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এই হিসাবে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা আদায় হয় সেখান থেকে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টাকা আদায়ের এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্যামল আহমেদ ওরফে রাসেল। তিনি পাপেল চক্রের সঙ্গে সমঝোতা করেই এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
শ্যামলের হয়ে গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজটি করেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক।
তবে শ্যামল আহমেদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি কোনো দখল বা চাঁদাবাজিতে যুক্ত নন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করছেন, তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
সেখানকার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও গদিগুলো থেকে চাঁদা তোলার কাজটি করতেন এই ইসমাইল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর ভাই আইয়ুব আলী দারুস সালাম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ফলে ইসমাইলের প্রভাবও বহাল রয়েছে।
ইসমাইল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি ছোটবেলা থেকে ইট-বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কোনো চাঁদাবাজিতে জড়িত নন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতেন, তবে কোনো পদে নেই।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শ্যামল আহমেদের কর্মী কমল, মাহফুজ, শফিক ও আজহারুল এবং আরও চার-পাঁচজন ট্রাক থেকে টাকা তোলেন। দৈনিক অন্তত ১৫০ ট্রাকে মালামাল আসে। গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে মাসে এই খাত থেকে চাঁদা আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।
এর বাইরে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জমিতে প্রায় ৩০০ প্লট রয়েছে, সেখানে গদিঘর রয়েছে। গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিআইডব্লিউটিএ প্রতি দেড় হাজার বর্গফুটের জন্য বছরে ২০ হাজার টাকা শুল্ক নেয়। ডিএনসিসির প্লটের ইজারা চেয়ে আবেদন হলেও সমাধান হয়নি।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, গাবতলীতে করপোরেশনের জমিতে অবৈধ ইট-বালুর ব্যবসার বিষয়ে দুই মাস আগে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারা ব্যবসা করছেন, কত দোকান ও কী কার্যক্রম চলছে, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে ইট-বালু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ গদির পাশাপাশি ওই ৩০০ প্লটের গদিতে পণ্য আনা ট্রাক থেকেও টাকা তোলা হয়। ছয় চাকার ট্রাক থেকে ২৫০ এবং ১০ চাকার ট্রাক থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শ্যামল আহমেদের কর্মী কমল, মাহফুজ, শফিক ও আজহারুল এবং আরও চার-পাঁচজন ট্রাক থেকে টাকা তোলেন। দৈনিক অন্তত ১৫০ ট্রাকে মালামাল আসে। গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে মাসে এই খাত থেকে চাঁদা আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।
ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী চার কর্মীর একজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ‘ইজারাদার মালিকের’ হয়ে টাকা তোলেন। মালিক কারা, জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘অনেকেই আছে। শ্যামল আহমেদ রাসেল আছে, ইসমাইল আছে; আরও অনেকে আছে সবাইকে চিনিও না।’
একই এলাকায় অবস্থিত গাবতলী পশুর হাট। হাটের সামনের অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান রয়েছে। দোকানগুলো থেকে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করে একই চক্র।
ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী চার কর্মীর একজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ‘ইজারাদার মালিকের’ হয়ে টাকা তোলেন। মালিক কারা, জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘অনেকেই আছে। শ্যামল আহমেদ রাসেল আছে, ইসমাইল আছে; আরও অনেকে আছে সবাইকে চিনিও না।’
নৌপথে ‘শুল্কের’ নামে টাকা আদায়
গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে সিন্নিরটেক হয়ে আশুলিয়া নৌপথে চলন্ত পণ্যবাহী নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে টাকা আদায় করা হয়।
স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রণে এই টাকা আদায় তদারক করেন ইব্রাহিম খলিল, ইসমাইল হোসেন ও জহুরাবাদের বাবুল। ইসমাইল ও বাবুল আওয়ামী লীগ আমলেও টাকা তুলতেন। এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই পক্ষ মিলে এই চাঁদা আদায় করছে। তাঁরা এই ব্যবস্থাকে ‘প্যাকেজ’ বলেন।
ইসমাইল ও বাবুল গত অর্থবছরে এখানকার বৈধ শুল্ক ইজারাদার বলে দাবি করে থাকেন। তাহলে এখন কীভাবে টাকা তুলছেন—সে বিষয়ে এই দুজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, আগের ইজারাদার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে মামলা করায় চলতি অর্থবছরে নতুন দরপত্র আহ্বান ও ইজারাদার নিয়োগ হয়নি। তবে আগের দর অনুযায়ী প্রতি মাসে আদায় করা টাকা ইব্রাহিম ও বাবুলরা পরিশোধ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আদায়কারী ও চালকদের হিসাবে, দৈনিক ১০০-১৫০টি নৌযান চলে। ১০০টি থেকে দেড় হাজার টাকা করে ধরলেও মাসে আদায় হয় ৪৫ লাখ টাকা। এটি তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব; প্রকৃত আদায় যাচাই করা যায়নি।
তবে নিয়ম হচ্ছে পণ্য খালাসের জায়গায় থেকে ইজারাদার হিসেবে শুল্ক তুলবে। চলন্ত নৌযান থেকে এভাবে শুল্ক আদায়ের সুযোগ নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
বর্তমানে কাগজপত্রে কোনো ইজারাদার না থাকলেও সিন্নিরটেক ঘাটে ‘শুল্ক’ আদায়কারী কর্মী আম্বর আলী গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, নৌযানের আকার অনুযায়ী এক-দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। তিনি ইজারাদার হিসেবে পাপেল, রাসেল ও পারভেজের নাম বলেছেন।
তবে তীরে পণ্য খালাস করা নৌযানের চালক ও কর্মীরা বলেন, বাস্তবে একেকটি পণ্যবাহী নৌযান থেকে নেওয়া হচ্ছে দুই-আড়াই হাজার টাকা।
আদায়কারী ও চালকদের হিসাবে, দৈনিক ১০০-১৫০টি নৌযান চলে। ১০০টি থেকে দেড় হাজার টাকা করে ধরলেও মাসে আদায় হয় ৪৫ লাখ টাকা। এটি তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব; প্রকৃত আদায় যাচাই করা যায়নি।
বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সহসভাপতি আহমাদুল কবির মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, বিক্রয়মূল্যে তফাত থাকলেও পাথর, কয়লা ও বালুতে প্রতি ঘনফুটে সমান ৬০ পয়সা শুল্ক নির্ধারণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এতে মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, সুযোগ নিচ্ছেন ইজারাদারেরা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়; যেসব নৌযানের মালিক প্রভাবশালী, তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয় এক-দুই হাজার টাকা।
পরিচয়–নির্বিশেষে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিরপুরে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে কিংবা আগে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার
টার্মিনাল ও ট্রাকস্ট্যান্ডেও আদায়
গাবতলী বাস টার্মিনাল এখন গোলাম রসুল পারভেজের নিয়ন্ত্রণে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। গোলাম রসুল পারভেজ দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক। রাড্ডার ঘটনার পর সংগঠন থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
বাস টার্মিনালে বৈধ কাউন্টার ও দোকান বাদে হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে পারভেজের লোকজন টাকা তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা মাসুদ এবং থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন ওরফে রিপন। সম্প্রতি তাঁরা সাতটি টিকিট কাউন্টার নির্মাণ করেছেন বলেও জানা গেছে।
ডিএনসিসির পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খালি কাউন্টার না থাকায় আবেদনকারীদের নিজ খরচে নির্মাণের অনুমতি দিয়ে পরে অনুমোদন করা হয়।
এই অনুমোদনের সুযোগে এই নেতারা কিছু কাউন্টার নিজেদের পরিবহনের নামে নির্মাণ করেছেন। অন্যগুলো এককালীন টাকায় অন্য পরিবহনকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও গোলাম রসুল পারভেজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মির্জা মাসুদের ভাষ্য, নিজের পরিবহন প্রতিষ্ঠান মির্জা এন্টারপ্রাইজের জন্য করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে নিজ অর্থে কাউন্টার নির্মাণ করেছেন। ইকবাল হোসেনের প্রতিষ্ঠান ঢাকা নাগরপুর লিংক লিমিটেডের নামেও কাউন্টার বরাদ্দ হয়েছে।
টার্মিনালের কাছে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়ি রাখার স্থান বা যান্ত্রিক শাখার পেছনে করপোরেশনের জমিতে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড রয়েছে। এটি পরিচালনা করেন আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সহসভাপতি সালেক।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, দিন-রাতে পালা করে ১৬০-১৭০টি ট্রাক রাখা হয়। প্রতিটি থেকে মাসে দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। ১৬০টি ধরলে মাসিক আদায় অন্তত ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সালেকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ আছে, পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র—এই চক্র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রাড্ডার ঘটনার জেরে দলীয় প্রধানের নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাপেলরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু চাঁদাবাজি, দখল এখনো বহাল আছে।
যেভাবে প্রভাব বাড়ে
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ আমলে এসব এলাকায় দখল ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক ও তাঁর অনুসারীদের হাতে। ২০২১ সালে আসলামুল হক মারা যান। এরপর নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান ওরফে নিখিলের লোকজন।
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একশ্রেণির নেতা-কর্মী। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজু দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর তাঁর অনুসারীদের প্রভাব কমে যায়। এলাকায় ক্রমে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র। তাঁরা এলাকার অবৈধ উপার্জনের খাতগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
অভিযোগ আছে, পাপেল, লেলিন, হানিফ ও শুভ্র—এই চক্র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ ওরফে মিষ্টির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রাড্ডার ঘটনার জেরে দলীয় প্রধানের নির্দেশে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাপেলরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু চাঁদাবাজি, দখল এখনো বহাল আছে।
এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার প্রথম আলোকে বলেন, পরিচয়–নির্বিশেষে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিরপুরে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে কিংবা আগে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।