রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ওয়ারী)। তাঁদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুটি গুলি, ১৬০টি ইয়াবা বড়ি ও দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে মিরপুরে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার ও চারটি গুলিসহ মো. জামিল হোসেন ওরফে শুটার জাকির ওরফে মো. জাকির (৪৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপির পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গেন্ডারিয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ফরিদ ব্যাপারী (২৩), মো. সবুজ (২২), সাহাদত হোসেন আলিফ (১৮) ও রিফাত হোসেন (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগের মুনশিরটেক এলাকায় মাদক কারবারের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে সাধারণ পথচারী ও দোকানদারসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থেকে শনাক্ত হওয়া অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে ডিবি ওয়ারীর একটি দল গেন্ডারিয়ার মীর হাজীরবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরিদ ব্যাপারীর কোমরে গোঁজা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি স্টিলের ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি পাওয়া যায়। তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ১৬০টি ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪৮ হাজার টাকা।
মো. সবুজের কাছ থেকে একই ধরনের একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি স্টিলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। সাহাদত হোসেন আলিফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু এবং রিফাত হোসেনের কাছ থেকে লোহার তৈরি কাঠের বাঁটযুক্ত এক পাশ ধারালো আঁকাবাঁকা ছোরা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও মাদক কেনাবেচা চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। গত ৩০ আগস্ট স্বামীবাগ এলাকায় গোলাগুলি ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর তাঁরা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে ডিবির অভিযান চলছে।
‘শুটার জাকির’ গ্রেপ্তার
অন্যদিকে মিরপুরে গ্রেপ্তার জাকিরের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ম্যাগাজিনে থাকা দুটি গুলি, একটি কালো রঙের বিদেশি রিভলবার, রিভলবারের চেম্বারে থাকা দুটি গুলি ও একটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল গত বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জাকির একজন পেশাদার সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী শুটার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবে মিরপুর এলাকায় কাজ করতেন। পরে জয় নিহত হওয়ার পর অপরাধীচক্রের আরেক সদস্য তাজকীরের সহযোগী হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত ৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর মডেল থানার সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিজুকে (৩৮) হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জাকির পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাঁর সহযোগী শুটার মো. কাওছার ভুইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে (২৪) অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করে মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ।
ওই ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। এর একটি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে এবং অপরটি অস্ত্র আইনে। মামলা দুটি মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ তদন্ত করছে।