
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলার দুই আসামি পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, অভিযান চালানোর সময় আসামিরা চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়েছে।
পরে গুলিতে আহত দুজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ১০ জন।
আদাবর থানা-পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকার কাঁচা বাজারের পাশের খেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন রাজিব হাওলাদার (৩০) ও সাগর (২৪)। তাঁদের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর চিকিৎসার জন্য তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুজন হলেন শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)।
আদাবর থানা-পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের ধরতে রাত দুইটার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন ছিলেন। গ্রেপ্তার করতে গেলে তাঁরা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন আত্মরক্ষার্থে অভিযানে থাকা কনস্টেবলের হাতে থাকা শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করা হয়।
পুলিশ আরও বলেছে, গুলিতে রাজিব আর সাগর আহত হন। তাঁদেরসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিরা চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি জাহিদুল আরও বলেন, আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলায় এর আগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও চারজন। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা আছে। আর রাজিব মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা আছে।
গত রোববার আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল চাপাতি, রামদা ও পিস্তল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ।
ওই ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও আছে।