
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তাঁর গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সাত দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।
এর আগে ৪ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরদিন তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। ৬ আগস্ট শুনানি নিয়ে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর ১১১ জনকে এজাহারভুক্ত করে মামলাটি করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি জগলুল এ মামলার ১৭ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। এ মামলায় মোট চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ থেকে ৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারা দিন অবস্থান করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের মারধর করেন। আসামিরা রাস্তার ওপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। জনসাধারণের চলাচলে এবং খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগদান করতে না পারেন, সে জন্য রাস্তার ওপর ত্রাস সৃষ্টি করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে (মার্চ ফর ডেমোক্রেসি) যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেন এবং বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেন। খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করেন। এতে খালেদা জিয়াসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা–কর্মীরা আহত হন।