
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে স্কচট্যাপ প্যাঁচানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ ক্ল্যাসিক বাসের চালক সোহেল রানা আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিয়েছেন। মামলাটির তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে সোহেল রানা জবানবন্দি দেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বাসের চালক সোহেল রানা (৪০), সুপারভাইজার সাজু লস্কার (২৮) ও হেলপার মাহবুব আলম মনিরকে (১৮) গ্রেপ্তার করে বনানী থানা-পুলিশ ও র্যাব। পরদিন সাজু ও মাহবুব আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দেন। আর বাসচালক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
ইসমাইল হোসেনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় ৪ সেপ্টেম্বর মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে চারটার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে গ্রামের জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ছিল। ইসমাইলের ছেলে হাসান গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে বাবার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে বনানী থানার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী অংশের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী সড়কে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে মরদেহের সঙ্গে নগদ টাকা বা গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা মালামাল পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনেরা মরদেহটি ইসমাইল হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।