
কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ধর্ষণ মামলার এক আসামির সঙ্গে সেই মামলার বাদীর বিয়ে হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, এম তরিকুল ইসলাম রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি দোকানের কর্মচারী। বয়সে তার চেয়ে ৯ বছরের বড় এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে; কিন্তু তরিকুল বিয়ে করতে রাজি হননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী গত ২৬ এপ্রিল তরিকুলের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। পরে পুলিশ তরিকুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। ওই নারীর ডিএনএ পরীক্ষায় তরিকুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
কারাগার সূত্র জানায়, দুই পরিবারের সমঝোতার চেষ্টার এক পর্যায়ে কারাগারে থেকেই ওই নারীকে বিয়ে করতে সম্মতি দেন তরিকুল। এরপর দুই পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কারাগারে বিয়ের অনুমতি দেন।
ভুক্তভোগী নারীটির আগে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। ওই ঘরে তাঁর কোনো সন্তান জন্ম নেয়নি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে উপতত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মাসুদ হাসানের উপস্থিতিতে কাজী ডেকে বিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। ধর্মীয় রীতি মেনেই ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে তরিকুলের বিয়ে হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রী কারাগারের ভেতরে পরস্পর মালাবদল করেন। সেখানে নারীটির মা, তরিকুলের মা ও বাবা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ে হওয়ার পর তরিকুলের নববধূ, তার মা ও শ্বশুর শাশুড়ি ও কাজী কারাগার ছেড়ে চলে যান।
কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে তরিকুলের পক্ষ থেকে আদালতে কাবিননামা দাখিল করলে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে জামিন দিতে পারেন।