ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির

স্বামী, স্ত্রীর নেতৃত্বে চোর চক্র, মন্দিরে ঘুরে ঘুরে করতেন সোনা চুরি

রাজধানীর বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে স্বর্ণালংকার চুরি করতেন স্বামী-স্ত্রী। প্রতিমার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার চুরি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। রমনা কালীমন্দির থেকে মা কালীর বিগ্রহের জিভে রাখা সোনা চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে এই দম্পতির সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টোর রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন এ তথ্য তুলে ধরেন।

ফারুক হোসেন বলেন, রমনা কালীমন্দির ছাড়াও আরও দুই মন্দিরের সোনা চুরির সঙ্গে অর্ণব রায় ও তাঁর স্ত্রী লিপি কর্মকারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় তাঁরা ছাড়াও আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সোনার দোকানের মালিক।

সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত, সোনার পাত উদ্ধার

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে শাহবাগের রমনা কালীমন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। মন্দিরের মা কালী বিগ্রহের জিবে রাখা আনুমানিক ছয় আনা ওজনের সোনা চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ।

পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। একপর্যায়ে উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকা থেকে অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনকে আদালতে পাঠানো হলে তাঁরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ফারুক হোসেন জানান, তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকার সাদিয়া জুয়েলার্সের মালিক মো. মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুই আনা এক রতি ওজনের সোনার পাত উদ্ধার করা হয়েছে। এটি রমনা কালীমন্দির থেকে চুরি যাওয়া সোনার অংশ।

সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের চুরিতেও জড়িত

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়। গ্রেপ্তার অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ঘটনায়ও তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

এই দম্পতি চুরির পর স্বর্ণালংকারটি জাকারিয়া ইসলাম নামের এক জুয়েলারি দোকানির কাছে বিক্রি করেছিলেন। তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, দুই মন্দিরে চুরির পাশাপাশি গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে একটি মন্দিরে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গলার সোনার চেইন চুরির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে অর্ণব রায়ের বিরুদ্ধে। চেইন নিয়ে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিত তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে মন্দির কমিটির সদস্যরা তাঁকে ছেড়ে দেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চোর চক্রের সদস্য উল্লেখ করে ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তিনটি ঘটনায় অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকারের সম্পৃক্ততার কথা বলছে। বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে চুরি করতেন তাঁরা। তিনটি ঘটনার বাইরে আগেও তাঁরা একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না কিংবা তাঁদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।