আদালত
আদালত

পাইলটের লাইসেন্স নবায়নের নামে ঘুষ নেওয়ার দায়ে বেবিচকের লাইসেন্স পরিদর্শকের কারাদণ্ড

পাইলটের লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার দায়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ এম রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরপক্ষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

রায়ের আদেশে আদালত জব্দ করা এক লাখ টাকা অভিযোগকারীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা মুঠোফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও ক্রেডিট কার্ড রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা রাশেদ সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাকিব হাসান ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক পাইলট (সিপিএল) লাইসেন্সের প্রথম ধাপের ‘এয়ার ল’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশ নিতে ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর ফি জমা দিয়ে আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রাশেদ সরকার অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁর আবেদন দুবার বাতিল করেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

একই বছরের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় রাকিব হাসানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা রাশেদ সরকারকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ওই ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে এ মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।