মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ
মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনতার প্রতিরোধ কিন্তু সবচেয়ে বড় শক্তি। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে উদাহরণ রয়েছে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র‍্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপরাধের কথা শোনেন। অপরাধ নির্মূলে আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদকের বিস্তার রোধে অটোরিকশার গ্যারেজে নজরদারি, বেড়িবাঁধ এলাকায় মোটরসাইকেল টহল বৃদ্ধি, ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহে কড়াকড়ি করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান বাসিন্দারা।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই—এই তিন বিষয় নিয়ে নাগরিকেরা তাঁদের বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। গত তিন মাসের সঙ্গে আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। নাগরিকেরা চান মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

এ জন্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণকে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তাহলে এই এলাকায় কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অটো রিকশার গ্যারেজের ভেতরে রাতে যাকেই পাওয়া যাবে, তাকেই অ্যারেস্ট করতে হবে।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে এবং অতি সত্বর মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

প্রয়োজনে ছিনতাকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রয়োগ হবে

ছিনতাইয়ের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা দিয়ে কারও ওপর হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের কমিউনিটি পুলিশিং, ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে

বক্তব্য দেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব । ১২ সেপ্টেম্বর

মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নেওয়ার ওপর জোর দেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব। তিনি বলেন, সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, মাদক নিচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব প্রথমত পরিবারের।

হারানো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বেশ কিছু অস্ত্র হারানো গিয়েছে। হারানো অস্ত্র উদ্ধারে সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আপনারা তথ্য দিন। নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনাদের দেওয়া তথ্য পরিপূর্ণভাবে গোপন রাখব। যদি আপনার দেওয়া তথ্য কোনোভাবে প্রকাশ পায়, আমাকে জানাবেন। কিন্তু দয়া করে তথ্য দিয়ে আমাদের সাহায্য করেন।’

র‍্যাবের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের র‍্যাব অনেক ভালো কাজ করেছে। কিছু খারাপ কাজ হয়েছে র‍্যাবকে দিয়ে। সেই কারণে সরকার র‍্যাবকে নতুন রূপে, নতুনভাবে, নতুন আইনের মাধ্যমে রূপান্তর করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন হিসেবে। আমাদের দায়িত্ব নিরূপণ করেছে। আমাদের অধিক পরিমাণ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছে।’