তাহসিফ সাউরি নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালতে আনা হয়। ঢাকা মহানগর আদালত, ৩১ অক্টোবর
তাহসিফ সাউরি নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে আদালতে আনা হয়। ঢাকা মহানগর আদালত, ৩১ অক্টোবর

তাহসিফ হত্যা মামলা তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ দীপ রিমান্ডে

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে (২৩) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ শনিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। এদিন বেলা সোয়া ২টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাঁকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসছে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করার সময় নিহত ব্যক্তির ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন নিহত তাহসিফ সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন আসামি দীপ। প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামি দীপের সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং আসামি যাতে জামিনে বের হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে না পারেন, সে জন্য তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও মোটিভ (কারণ) উদ্‌ঘাটন, জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও তাঁদের গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামত উদ্ধার এবং নিহত তাহসিফ সাউরির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল স্থান বা এটি কোথায় সংঘটিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্যও রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুনানির সময় আসামি দীপকে এজলাসে তোলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। দীপের পক্ষে মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

তাঁরা আদালতকে জানান, দীপের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির ছয় বছরের সম্পর্ক। ইতিমধ্যে দুই দিন ধরে পুলিশের হেফাজতে আছেন তিনি। মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তাঁকে রিমান্ড নেওয়ার প্রয়োজন হলে নেওয়া হোক; তবে সেটা সতর্কতার সঙ্গে যেন হয়। ইতিমধ্যে তিনি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। পরে আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।