গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেন না। অথচ প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে দেখাতেন টাকা জমা হয়েছে। কখনো আবার মালিকের সই করা ফাঁকা চেকে প্রাপকের নাম বদলে অর্থ সরিয়ে নিতেন ব্যক্তিগত হিসাবে। এভাবে সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমন সব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি বলছে, অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পার্থ সারথী হালদারসহ অন্য অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগর মোড় এলাকা থেকে এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে জনি (৩৭) ও সৈয়দ আরব আলী (৫২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি।
সিআইডির তথ্যমতে, পার্থ সারথী হালদার গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ নিজের ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই ধরনের কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, তদন্তে পার্থ সারথী হালদারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা নগদ অর্থ এবং ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অভিযুক্তরা ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
সিআইডির ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী অপরাধে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।