
অপহরণের ২৭ ঘণ্টা পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের কর্মী আবদুর রহমানকে (৪৫) উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইকবাল মাহবুব (২৮), তাঁর মা শিউলি আক্তার (৪০), শ্বশুর হাবিব সরকার (৫৫) ও তাঁদের ভাড়াটে আবুল হাশেম (৪৯)।
আজ বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে র্যাব ১–এর গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিব হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আবদুর রহমান টঙ্গী পশ্চিম থানার সাহাজ উদ্দীন সরকার রোডে থাকেন। তিনি প্রতিদিনের মতো ১৯ জানুয়ারি সোমবারও কর্মস্থলে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে জানান বাসায় ফেরার সময় বিমানবন্দর গোলচত্বরের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁকে অপহরণ করে দক্ষিণখানের গাওয়াইরে আটক রেখেছেন। এখন তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাইছেন অপহরণকারীরা।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এরপর অপহরণকারীরা তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর থেকে আবদুর রহমানের পরিবারকে ফোন দেন। দ্রুত মুক্তিপণের টাকা না পাঠালে তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা আবার ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চান। একপর্যায়ে আবদুর রহমানকে মারধর করেন। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাঁর স্বজনের অপহরণকারীদের ৭০ হাজার টাকা পাঠান। এরপরও বাকি টাকার জন্য তাঁকে নির্যাতন চালাতে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে আবদুর রহমানের স্বজনেরা বিষয়টি র্যাব-১–কে জানান। পরে র্যাব সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, অপহৃত আবদুর রহমানকে দক্ষিণখানের দক্ষিণ–পূর্ব গাওয়াইরে রাখা হয়েছে। পরে রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে আবদুর রহমানকে উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িত চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি অপহরণের মামলা করা হয়।
আজ সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে মামলার বাদী ও আবদুর রহমানের ভাবি মোছা. লাকি প্রথম আলোকে বলেন, ‘“বাসায় ফেরার সময় একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর দেবরকে বলেন কার্গো ভিলেজের জন্য একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঠিক করেছি তাকে চাকরি দিতে হবে।” এ কথা বলে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে দেখা করাতে নেওয়ার জন্য তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপহরণকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।