
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আশকোনা হজ ক্যাম্পে এক হজযাত্রীর হাতব্যাগ থেকে সৌদি রিয়াল চুরির সাত দিন পর দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকার অদূরে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১৭ হাজার সৌদি রিয়াল ও নগদ ৯০ হাজার বাংলাদেশি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন হাবিবুর রহমান ও নাদিম।
আজ শুক্রবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার তারেক আহমেদ বেগ প্রথম আলোকে বলেন, ওই হজযাত্রীর হাতব্যাগ থেকে ২২ হাজার রিয়াল চুরি হয়েছিল। গ্রেপ্তার হাবিবুর ও নাদিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ হাজার সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়েছে। চোর চক্রের হোতাসহ বাকি পাঁচ হাজার রিয়াল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার আশকোনা হজ ক্যাম্পে হজযাত্রী ইমরান হোসেনের হাতব্যাগ থেকে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও নগদ ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় ইমরান হোসেনের ছেলে মো. সাইয়ন আহমেদ বিমানবন্দর থানায় একটি চুরির মামলা করেন।
বিমানবন্দর থানার পুলিশ জানায়, ওই হজযাত্রীর দেশি-বিদেশি মুদ্রা চুরির ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (সিটি এসবি) দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোর চক্রের সদস্য হাবিবুর রহমান ও নাদিমকে টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আতর বিক্রি করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হজ ক্যাম্পের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা ছদ্মবেশী এক ব্যক্তি ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় হজযাত্রী ইমরান হোসেন তাঁর ব্যবহৃত একটি হাতব্যাগ ভুলবশত শৌচাগারে রেখে মসজিদে ঢুকে পড়েন। তখন ওই ছদ্মবেশী চোর শৌচাগারে থাকা ব্যাগটি খুলে দেশি-বিদেশি মুদ্রা নিয়ে ব্যাগটি সেখানেই ঝুলিয়ে রেখে নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে দিয়েই চলে যান। পরে ভুক্তভোগী হজযাত্রী হজ পরিচালকের দপ্তরে গিয়ে কান্নাকাটি করে অভিযোগ করেন। তাঁর ব্যাগে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল এবং ১০ হাজার বাংলাদেশি টাকা ছিল। পরে হজ অফিস থেকে ওই ভুক্তভোগীকে ২ হাজার সৌদি রিয়াল সহায়তা দেওয়া হয়। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে উড়োজাহাজে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন।