
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে (৫১) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে আসাদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ। ওই আবেদনে বলা হয়, আসাদুল ইসলাম লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুদক ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে। আজ বেলা ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সার্ভেয়ারের নির্ধারিত কক্ষে আসাদুল ইসলামকে ওই টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন। টাকা গ্রহণের পর আসাদুল ইসলাম তা তাঁর ডান পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে রাখেন। আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুদকের ফাঁদ দলের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক থেকে খাকি রঙের খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা টাকার নম্বরের সঙ্গে আগের দিন অভিযোগকারীর দেওয়া টাকার নম্বরের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
দুদক জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকা জেলার লালবাগ থানার চরকামরাঙ্গী মৌজায় ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেন। এই জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পৃথক করা এবং নকশা তৈরির জন্য গত ২৭ এপ্রিল তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু প্রায় ছয় মাসেও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি। তিনি একাধিকবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে এই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে মনিরুলের কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন আসাদুল। বিষয়টি দুদককে জানান মনিরুল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করে দুদক।
এর ধারাবাহিকতায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।