
অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যবহারের জন্য এজেন্ট সিম সংগ্রহ করতেন তাঁরা। অর্থের বিনিময়ে এসব সিম সরবরাহ করা হতো জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনদের কাছে। মূলত জুয়ার অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো এসব সিম। অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে এমন চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গতকাল রোববার রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাবলু মিয়া (২৮) ও মো. মনির হোসেন (৩০) এবং সখীপুর উপজেলার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)।
সিআইডি বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনদের কাছে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার দেখতে পায়, দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং বা জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার চটকদার বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে এসব জুয়া পরিচালিত হচ্ছিল।
এসব বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করার পর গত ১৭ মে সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করে।
মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের সহায়তায় তদন্তকারী দল জানতে পারে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করত। তাঁদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে বেটিং সাইটে যুক্ত করা হতো।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা তাঁদের নির্দিষ্ট কমিশন রেখে দিতেন। এরপর বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে গতকাল রাতে টাঙ্গাইল থেকে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই মামলায় এর আগে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এর মধ্যে গত ৭ জুন টাঙ্গাইল থেকে মো. সোলায়মান, মো. সাগর মিয়া ও মো. জুয়েল রানা; ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মো. রায়হান খান, মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর ১২ জুলাই নড়াইল থেকে মো. জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় এবং সর্বশেষ ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থ পাচার এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।