ছিনতাই
ছিনতাই

ধানমন্ডিতে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই: স্বর্ণ বিক্রির কথা বলে ডেকে নিয়েছিল ভুক্তভোগীদের

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পৃথক মামলায় চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র মামলায় আসামি মো. তানভীর আবেদীন বাবু ওরফে খোকন, ওরফে টুটুল ওরফে জুইকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ডাকাতির মামলায় তিন আসামি মো. মজিবুর রহমান (৬০), মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০) এবং কবির হোসেনকে (৫০) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অস্ত্র মামলায় গতকাল সোলাইমান মৃধা (৫৫) নামের একজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার (বাঁ থেকে) তানভীর আবেদীন, মো. মজিবুর রহমান ও মো. জাকির হোসেন

আদালতে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, খোরশেদ আলম পেশায় একজন বেকারি ব্যবসায়ী। তাঁর শ্যালক সুমন সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। সেখান থেকে তিনি বাংলাদেশে বিকাশে টাকা পাঠাতেন। সেই সূত্রে বিকাশের এজেন্ট মজিবুর রহমান (২ নম্বর আসামি) পরিচয় হয়। সম্প্রতি সুমন দেশে ফিরে আসেন। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মজিবুর সুমনকে স্বর্ণ ব্যবসার প্রস্তাব দেন। জানান তাঁর কাছে ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি স্বর্ণের বার আছে। এরপর খোরশেদ ও সুমন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরে একটি রেস্তোরাঁয় মজিবুরের সঙ্গে দেখা করেন। মজিবুরের সঙ্গে জাকির ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৩ নম্বর আসামি) ও সফিকুল ইসলাম (৪ নম্বর আসামি, পলাতক) ছিলেন। তাঁরা খোরশেদ ও সুমনকে মুঠোফোনে স্বর্ণের বারের ছবি দেখান। দাম চান ৩৮ লাখ টাকা।

৩০ আগস্ট খোরশেদ ও সুমন টাকা নিয়ে পূর্বনির্ধারিত স্থান ধানমন্ডি থানা এলাকায় যান। তাঁরা রিকশায় করে ধানমন্ডি ১১/এ সড়কে পৌঁছে সেখানে এজাহারনামীয় ৯ জনসহ ১২–১৩ জনকে দেখতে পান। তাঁদের মধ্যে তানভীর আবেদীন বাবু ওরফে টুটুল ওরফে জুইসহ তাঁর সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা একজন খোরশেদের কাছে টাকা চাইলে তিনি আগে স্বর্ণের বার চান। এ সময় তানভীর খোরশেদের বুকে রিভলবার ধরে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে সব আসামি পালিয়ে যান। বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ধানমন্ডি থানার টহল পুলিশ এগিয়ে এলে তানভীর ও মজিবুর পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তানভীরের কাছ থেকে পুলিশ রিভলবার, চারটি গুলি পায়।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে তানভীর আবেদীনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে। আর ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ডাকাতি মামলা করেন। এই মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩–৪ জনকে আসামি করা হয়।

পরে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তানভীরকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে এই ছিনতাইকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত মো. মজিবুর রহমান (৬০) ও মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়। আর গ্রেপ্তার হয় কবির হোসেন (৫০)।

ডাকাতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মো. বাবন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্র মামলায় আজ তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে গতকাল মো. সোলাইমান মৃধাকে (৫৫) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ৩১ আগস্ট আদাবর থানাধীন এলাকা থেকে সোলাইমান গ্রেপ্তার হন।

অস্ত্র মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, তানভীর আবেদীনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত চার দিন মঞ্জুর করেন।